Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুজরাটকে সর্বনিম্ন রানে লজ্জায় ডুবিয়ে দিল্লির টানা দ্বিতীয় জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১১:১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৯৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অভিষেকেই আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল গুজরাট টাইটান্স। দ্বিতীয় আসরেও খেলেছিল ফাইনাল। হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে আধিপত্য বিস্তার করা দলটি এবার শুবমান গিলের অধীনে সুবিধা করতে পারছে না। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয়বার অলআউট হলো গুজরাট, তাও আবার লজ্জার রেকর্ড গড়লো সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়ে।

প্রথমবার একশর নিচেই ১০ ব্যাটারের সবাই আউট হয়ে গেছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ৮৯ রানে তাদের থামিয়ে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।

জয়ের জন্য ৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ৪ উইকেট হারেতে হল দিল্লিকে। রান পেলেন না পৃথ্বী শ (৭)। অন্য ওপেনার জ্যাক ফ্রাসের করলেন ১০ বলে ২০। ২টি করে চার এবং ছক্কা মারলেন। তিন নম্বরে নেমে রান পেলেন না বাংলার অভিষেক পোড়েলও। তিনি ২টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে করলেন ৭ বলে ১৫। সাই হোপের ব্যাট থেকে এল ১০ বলে ১৯ রান। তিনি মারলেন ১টি চার এবং ২টি ছয়। ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারালেও লক্ষ্য ছোট থাকায় সমস্যা হয়নি দিল্লির।

শেষ পর্যন্ত ২২ গজে থেকে দলকে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক পন্থ এবং সুমিত কুমার। পন্থ ১১ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকলেন। মারলেন ১টি করে চার এবং ছয়। সুমিত অপরাজিত থাকলেন ৯ বলে ৯ রান করে। ২টি চার এল তাঁর ব্যাট থেকে। দিল্লির সন্দীপ ওয়ারিয়র ৪০ রানে ২ উইকেট নিলেন। ২২ রানে ১ উইকেট জনসনের। ১২ রান খরচ করে ১ উইকেট নিলেন রশিদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিল গুজরাটের ইনিংস। ইশান্ত শর্মার বলে দলীয় মাত্র ১১ রানে অধিনায়ক শুভমান গিলকে হারায় তারা (৬ বলে ৮ রান)। অপর ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহাও মাত্র ২ রান করলেন ১০ বল খেলে। তিন নম্বরে নামা সাই সুদর্শন করেন ৯ বলে ১২ রান। এরপর নামা ডেভিড মিলারের অবদান ৬ বলে ২ রান। অভিনব মনোহরের ব্যাট থেকে ১৪ বলে ৮ রান আসে। এছাড়া রাহুল তিওয়াতিয়া ১০ রান করেন ১৫ বল খেলে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামা শাহরুখ খান প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। একেবারে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বেমানান ইনিংস খেলতে থাকেন গুজরাট ব্যাটাররা!

মাত্র ৪৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা চাপে পড়ে যায়। সেই চাপ সামলাতে পারেননি নীচের দিকের ব্যাটাররাও। গুজরাটের ইনিংসে ধস নামার নেপথ্যে দিল্লির বোলারদের কৃতিত্ব থাকলেও বেশি ছিল শুভমানদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। ভুল শট নির্বাচন করে আউট হন একাধিক ব্যাটার। শেষদিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন রশিদ খান। যদিও আফগান অলরাউন্ডারের ইনিংস দলকে ভরাডুবি থেকে বাঁচাতে পারেনি। রশিদ করলেন ২৪ বলে ২টি চার এবং ১টি ছক্কায় ৩১। গুজরাটের পক্ষে এদিন একমাত্র ছক্কাটি আসে রশিদের ব্যাটে। আর কেউ দলের হাল ধরতে না পারায় ১৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

দিল্লির হয়ে এদিন সবচেয়ে বেশি সফল মুকেশ কুমার। ২ ওভার ৩ বলে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। ইশান্ত শর্মা এবং ত্রিস্তান স্টাবস নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

গুজরাটের আইপিএল ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। এর আগে গুজরাট নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ১২৫ রান করেছিল গত আসরে। সেই ম্যাচটির প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যুও ছিল একই। দিল্লির বিপক্ষে আহমেদাবাদে করা সেই নজির ভেঙে আজ আরও লজ্জায় পড়েছে গিলের দল। তবে আইপিএলে এরচেয়েও লজ্জার নজির রয়েছে দলগুলোর। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০১৭ আসরে টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল। বিব্রতকর এই তালিকায় গুজরাটের অবস্থান ২৮তম।

এ বারের আইপিএলের ক্ষুদ্রতম ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিল্লি। সাত ম্যাচে পন্থদের পয়েন্ট হল ছয়। অন্য দিকে, সাত ম্যাচে গুজরাতেরও সংগ্রহ ছ’পয়েন্ট। নেট রান রেটের নিরিখে শুভমনেরা থাকলেন তালিকায় সপ্তম স্থানে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গুজরাটকে সর্বনিম্ন রানে লজ্জায় ডুবিয়ে দিল্লির টানা দ্বিতীয় জয়

প্রকাশের সময় : ১১:১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অভিষেকেই আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল গুজরাট টাইটান্স। দ্বিতীয় আসরেও খেলেছিল ফাইনাল। হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে আধিপত্য বিস্তার করা দলটি এবার শুবমান গিলের অধীনে সুবিধা করতে পারছে না। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয়বার অলআউট হলো গুজরাট, তাও আবার লজ্জার রেকর্ড গড়লো সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়ে।

প্রথমবার একশর নিচেই ১০ ব্যাটারের সবাই আউট হয়ে গেছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ৮৯ রানে তাদের থামিয়ে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।

জয়ের জন্য ৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ৪ উইকেট হারেতে হল দিল্লিকে। রান পেলেন না পৃথ্বী শ (৭)। অন্য ওপেনার জ্যাক ফ্রাসের করলেন ১০ বলে ২০। ২টি করে চার এবং ছক্কা মারলেন। তিন নম্বরে নেমে রান পেলেন না বাংলার অভিষেক পোড়েলও। তিনি ২টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে করলেন ৭ বলে ১৫। সাই হোপের ব্যাট থেকে এল ১০ বলে ১৯ রান। তিনি মারলেন ১টি চার এবং ২টি ছয়। ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারালেও লক্ষ্য ছোট থাকায় সমস্যা হয়নি দিল্লির।

শেষ পর্যন্ত ২২ গজে থেকে দলকে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক পন্থ এবং সুমিত কুমার। পন্থ ১১ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকলেন। মারলেন ১টি করে চার এবং ছয়। সুমিত অপরাজিত থাকলেন ৯ বলে ৯ রান করে। ২টি চার এল তাঁর ব্যাট থেকে। দিল্লির সন্দীপ ওয়ারিয়র ৪০ রানে ২ উইকেট নিলেন। ২২ রানে ১ উইকেট জনসনের। ১২ রান খরচ করে ১ উইকেট নিলেন রশিদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিল গুজরাটের ইনিংস। ইশান্ত শর্মার বলে দলীয় মাত্র ১১ রানে অধিনায়ক শুভমান গিলকে হারায় তারা (৬ বলে ৮ রান)। অপর ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহাও মাত্র ২ রান করলেন ১০ বল খেলে। তিন নম্বরে নামা সাই সুদর্শন করেন ৯ বলে ১২ রান। এরপর নামা ডেভিড মিলারের অবদান ৬ বলে ২ রান। অভিনব মনোহরের ব্যাট থেকে ১৪ বলে ৮ রান আসে। এছাড়া রাহুল তিওয়াতিয়া ১০ রান করেন ১৫ বল খেলে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামা শাহরুখ খান প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। একেবারে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বেমানান ইনিংস খেলতে থাকেন গুজরাট ব্যাটাররা!

মাত্র ৪৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা চাপে পড়ে যায়। সেই চাপ সামলাতে পারেননি নীচের দিকের ব্যাটাররাও। গুজরাটের ইনিংসে ধস নামার নেপথ্যে দিল্লির বোলারদের কৃতিত্ব থাকলেও বেশি ছিল শুভমানদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। ভুল শট নির্বাচন করে আউট হন একাধিক ব্যাটার। শেষদিকে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন রশিদ খান। যদিও আফগান অলরাউন্ডারের ইনিংস দলকে ভরাডুবি থেকে বাঁচাতে পারেনি। রশিদ করলেন ২৪ বলে ২টি চার এবং ১টি ছক্কায় ৩১। গুজরাটের পক্ষে এদিন একমাত্র ছক্কাটি আসে রশিদের ব্যাটে। আর কেউ দলের হাল ধরতে না পারায় ১৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।

দিল্লির হয়ে এদিন সবচেয়ে বেশি সফল মুকেশ কুমার। ২ ওভার ৩ বলে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। ইশান্ত শর্মা এবং ত্রিস্তান স্টাবস নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

গুজরাটের আইপিএল ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। এর আগে গুজরাট নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ১২৫ রান করেছিল গত আসরে। সেই ম্যাচটির প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যুও ছিল একই। দিল্লির বিপক্ষে আহমেদাবাদে করা সেই নজির ভেঙে আজ আরও লজ্জায় পড়েছে গিলের দল। তবে আইপিএলে এরচেয়েও লজ্জার নজির রয়েছে দলগুলোর। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০১৭ আসরে টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল। বিব্রতকর এই তালিকায় গুজরাটের অবস্থান ২৮তম।

এ বারের আইপিএলের ক্ষুদ্রতম ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিল্লি। সাত ম্যাচে পন্থদের পয়েন্ট হল ছয়। অন্য দিকে, সাত ম্যাচে গুজরাতেরও সংগ্রহ ছ’পয়েন্ট। নেট রান রেটের নিরিখে শুভমনেরা থাকলেন তালিকায় সপ্তম স্থানে।