Dhaka শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা বন্ধ হবে : ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভূমি আইন সংস্কার হচ্ছে বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আগামী অধিবেশনেই উঠবে, পাশও হবে আশা করছি। এটা পাশ হলে তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা বন্ধ হবে। আশা করি, অক্টোবরে এসব পাস করাতে পারব।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত ‘ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এবং টেকসই নগরায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা আছে, তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনা আমরা করতে দেব না। তিন ফসলি জমিতে স্থাপনার এটার (আইন পাস হলে) মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাবে। আর দুই ফসলি জমিতে স্থাপনা করার ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করছি।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এর আগে সিটি জরিপ হয়েছিল। সেখানে নানা প্রশ্ন উঠেছিল, এবার আমরা ডিজিটাল জরিপ করছি। ডিজিটাল সার্ভে হলে মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। দালালের দৌরাত্ম্য কমে যাবে। এতে আর দৌঁড়ানো লাগবে না। মানুষ ঘরে বসেই অনলাইন মাধ্যমে সেবা পাবেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণ করতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী সড়ক সংস্কারে কাজ চলছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ,আজ এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হলো। আমরা চাই ঢাকার ওপরে চাপ কমিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মানুষ আসবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন করছেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, কারও জমি ৬০ বিঘার ওপরে গেলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। এ ছাড়া পারবে না। যুক্তি দেখাতে হবে, কী কারণে ৬০ বিঘার বেশি।

এক ব্যক্তির ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিকানা কেন ঠেকানো হবে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেল, আপনি চট্টগ্রামে ৬০ বিঘা জমি কিনলেন, আবার রংপুরে ৬০ বিঘা নিচ্ছেন। এটা আর হবে না। আমরা সে জন্য সিস্টেম উন্নয়ন করে দিচ্ছি। সেখানে থাকবে আপনার নামে কতটুকু জমি আছে। আপনি দেশের যে জায়গায় জমি কিনতে যান, সেখানেই ওটা দেখা যাবে। কিনতে গেলেই বলবে, আপনার নামে ইতিমধ্যে ৬০ বিঘা জমি আছে।’

কৃষি জমি প্রতিবছর কমছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে বলে মনে করেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু পকেট কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে রাখতে হবে। যেমন নওগাঁ, উত্তরবঙ্গের কিছু কিছু পকেট আছে। আমরা শুধু ইন্ডাস্ট্রি করতেই থাকব, তাহলে খাদ্য উৎপাদনের কী হবে? ফলে এখানে কোনো শিল্প হতে পারবে না। তবে সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প হতে পারবে, যদিও এ ধরনের শিল্প দেশে এখনো চালু হয়নি।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সমীর সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা বন্ধ হবে : ভূমিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভূমি আইন সংস্কার হচ্ছে বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আগামী অধিবেশনেই উঠবে, পাশও হবে আশা করছি। এটা পাশ হলে তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা বন্ধ হবে। আশা করি, অক্টোবরে এসব পাস করাতে পারব।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত ‘ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এবং টেকসই নগরায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা আছে, তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনা আমরা করতে দেব না। তিন ফসলি জমিতে স্থাপনার এটার (আইন পাস হলে) মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাবে। আর দুই ফসলি জমিতে স্থাপনা করার ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করছি।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এর আগে সিটি জরিপ হয়েছিল। সেখানে নানা প্রশ্ন উঠেছিল, এবার আমরা ডিজিটাল জরিপ করছি। ডিজিটাল সার্ভে হলে মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। দালালের দৌরাত্ম্য কমে যাবে। এতে আর দৌঁড়ানো লাগবে না। মানুষ ঘরে বসেই অনলাইন মাধ্যমে সেবা পাবেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিকেন্দ্রীকরণ করতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী সড়ক সংস্কারে কাজ চলছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ,আজ এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হলো। আমরা চাই ঢাকার ওপরে চাপ কমিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মানুষ আসবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন করছেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, কারও জমি ৬০ বিঘার ওপরে গেলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। এ ছাড়া পারবে না। যুক্তি দেখাতে হবে, কী কারণে ৬০ বিঘার বেশি।

এক ব্যক্তির ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিকানা কেন ঠেকানো হবে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেল, আপনি চট্টগ্রামে ৬০ বিঘা জমি কিনলেন, আবার রংপুরে ৬০ বিঘা নিচ্ছেন। এটা আর হবে না। আমরা সে জন্য সিস্টেম উন্নয়ন করে দিচ্ছি। সেখানে থাকবে আপনার নামে কতটুকু জমি আছে। আপনি দেশের যে জায়গায় জমি কিনতে যান, সেখানেই ওটা দেখা যাবে। কিনতে গেলেই বলবে, আপনার নামে ইতিমধ্যে ৬০ বিঘা জমি আছে।’

কৃষি জমি প্রতিবছর কমছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে বলে মনে করেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু পকেট কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে রাখতে হবে। যেমন নওগাঁ, উত্তরবঙ্গের কিছু কিছু পকেট আছে। আমরা শুধু ইন্ডাস্ট্রি করতেই থাকব, তাহলে খাদ্য উৎপাদনের কী হবে? ফলে এখানে কোনো শিল্প হতে পারবে না। তবে সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প হতে পারবে, যদিও এ ধরনের শিল্প দেশে এখনো চালু হয়নি।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সমীর সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।