নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চেয়েছিল বিএনপির ২৯ তারিখের কর্মসূচি বানচাল করতে। কিন্তু বিএনপির কর্মসূচি বানচাল করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেই বানচাল হয়ে গেছে।
সোমবার (৩১ জুলাই) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। গত শনিবার (২৮ জুলাই) ঢাকায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ জনসমাবেশের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, আমরা প্রেস ব্রিফিং করে বলেছিলাম কোথায় কোথায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান করবেন। কিন্তু পুলিশ কিছু না বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।
রিজভী বলেন, সরকারি দপ্তর বা আদালতগুলোতে যাবেন, সেখানে দেখবেন জয় বাংলা লেখা আছে। কিন্তু জণগণের মধ্যে আজকে আর জয় বাংলা নেই। জয় বাংলা বিরুদ্ধে জনগণ বিক্ষোভ করতে ফেটে পড়ছে। আপনি যদি সাধারণ পাবলিকের কাছে যান, তারা বলে যে, শেখ হাসিনা কবে যাবে।
রিজভী বলেন, আজ আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের পরামর্শে পুলিশ আজ বিএনপিকে সমাবেশ করার যে শর্ত দিয়েছে। পুলিশ যে চিঠি দিয়েছে তার মধ্যে একটি শর্ত সাজাপ্রাপ্ত কেউ মিটিংয়ে থাকতে পারবে না। তার মানে সারা দেশকে যিনি ঐক্যবদ্ধ করেছেন সেই তারেক রহমানের বক্তব্য সভায় প্রচার করা যাবে না। এর মানে কি আপনারা বুঝতে পেরেছেন? যে ব্যক্তির কথার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাকে কথা বলার সুযোগ দেবে না সরকার। এভাবেই সরকার মানুষের কথা বলার কণ্ঠ রোধ করছে। ইয়াকুবের বেটা বেকুব, শর্ত দিয়ে কাজ হয় না। তারেক জিয়ার কণ্ঠ সারা দেশে পৌঁছে গেছে। তারেক জিয়ার কণ্ঠ রোধ করা আর সম্ভব না এই দেশে।
আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্রকে মাটিতে ফেলে শান্তির সমাবেশ করছেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নেতাদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শান্তির সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ। ৭০০ টাকা কেজি মরিচ দিয়ে শান্তির সমাবেশ করছেন ওবায়দুল কাদের। আমাদের রক্ত দিয়ে হলেও আপনাদের এই শান্তি সমাবেশ আমরা প্রতিহত করবো।
তিনি বলেন, জনতার ঢল কাকে দিয়ে আটকাবেন? এই ছাত্রলীগ, যুবলীগ দিয়ে? পুলিশ ছাড়া এই ছাত্রলীগ, যুবলীগ গাঙের জলে ভেসে যাবে। আর ওবায়দুল কাদের সবার আগে পালাবেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে, তখন আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের মতো শান্তি কমিটি গঠন করেছে।
রিজভী বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে আহত ও গ্রেফতার করেছে। তারা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি কীভাবে বানচাল করা যায় সেভাবেই পরিকল্পনা করেছিল। আসলে আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতে গিয়ে নিজেরাই বানচাল হয়ে গেছে। তারা এখন গায়েবি মামলা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের ২১/২৩ টি শর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। তার একটি শর্ত দিয়েছে কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। কারণ সারাদেশের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করছেন সেই তারেক রহমান। সেজন্যই তার বক্তব্য প্রচার না করার শর্ত দিয়েছে। কারণ দেশের আকাশে বাতাসে তারেক রহমানের নাম। পদ্মা মেঘনার প্রবল ঢেউয়ে তারেক রহমানের নাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























