নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ঈদযাত্রার গত ১০ দিনে পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে দুই সেতু দিয়ে মোট ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৭টি যানবাহন পারাপার করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পদ্মা সেতুতে ১০ দিনে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন পারাপার করেছে। এসব যানবাহন থেকে মোট ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। একই সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন পারাপার করেছে।
এ সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে দুই সেতু মিলিয়ে টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু দুটিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের কারণে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল এবং বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির সৃষ্টি হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, পদ্মা ও যমুনা সেতুর কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে ঈদের ছুটিতে থাকা যাত্রীদের জন্য সড়কপথে নিরাপদ, মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
৫
৯
৩
জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয় : তথ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইস্যুতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়, সরকারের কাজ হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে সুশাসন বজায় রাখা।
সোমবার (১ জুন) ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশগুলো আগে থেকেই দাম সমন্বয় করলেও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তা স্থিতিশীল রেখেছিল।
তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি আমদানি করতে হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
৩
পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
সোমবার (১ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় উপদেষ্টা। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন ও সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। আর রাজনীতিতে যোগদানের পর একের পর কালো মেঘের ছায়া এসে পড়ে রাজনৈতিক জীবনে। সেসময় আর নির্বাচন না হয়ে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হলে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনি আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে বিএনপির জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির নানান চড়াই-উতড়াইয়ের পর অবশেষে দেখা পান সোনার হরিণের। প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারেই পূর্ণমন্ত্রী হন। দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙ্গামাটির বিএনপির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে গেছেন দীপেন দেওয়ান। অবরোধ, মিছিল-মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান হন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (শান্তি চুক্তি) পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। তখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী করা হয় ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে। এরপর ২০০১ সালে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ান। ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।
এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হয়েছেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর। সবশেষ ২০২৪ এর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে। সে হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, এর ১২ বছর পর এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়।
৪৪
নাটোরে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বন্দর এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা বাইকের আরোহী ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। তার অবস্থাও গুরুতর।
সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার বন্দর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- লালপুর উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন এবং নাটোর সদর উপজেলার ইসলাবাড়ি গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে হীরা। এ সময় সাইফুল ইসলাম নামে অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, সকালে তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে নাটোর থেকে সিংড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা আমবোঝাই একটি ট্রাক নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের আমতলী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলে থাকা সবাই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন জীবন আলী ও হিরা। এতে ঘটনাস্থলেই জীবন ও হিরা মারা যান। আহত হন সাইফুল ইসলাম নামের একজন। খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ওসি মাহাবুবুর রহমান আরও জানান, ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলে যায়। ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
২
সীতাকুণ্ডে চার যানবাহনের সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২৫
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহী বাস, ড্রাম ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীরা রয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী হলেন- জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মিয়ারজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জহুরুল আলমের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা অতিক্রমকালে বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে ওঠা একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জারিয়া বেগম বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে থেমে গেলে একইমুখী একটি ডাম্প ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। একপর্যায়ে ট্রাকটি পাশের মোহাম্মদীয়া বেকারির ভেতরে আংশিক ঢুকে পড়ে।
এ ঘটনায় বাস, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার যাত্রী, পথচারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় কুমিরা ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠায়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ডাম্প ট্রাক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৩
পানামাকে গোল বন্যায় ভাসালো ব্রাজিল
গোলরক্ষক ওয়েভেরতন ছাড়া বেঞ্চে থাকা বাকি ১০ খেলোয়াড়ের সবাইকে বিরতির পর নামিয়ে দিলেন কার্লো আনচেলত্তি! এরপর যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল ব্রাজিল। ১০ মিনিটের মধ্যে তিনবার বল পাঠাল পানামার জালে। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে আশা জাগানিয়া জয় পেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
রিও দে জেনিরোতে রোববার (৩১ মে) রাতের একপেশে ম্যাচে ৬-২ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। স্বাগতিকদের হয়ে জালের দেখা পেয়েছেন ভিনিসিউস জুনিয়র, কাসেমিরো, লুকাস পাকেতা, হায়ান, ইগো চিয়াগো ও দানিলো সান্তোস।
পানামার প্রথম গোলটি মাথেউস কুইয়ার আত্মঘাতী। দ্বিতীয়টি করেছেন কার্লোস হার্ভে।
কানায় কানায় পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর কাছ থেকে বল পেয়ে ৩৫ গজ দূর থেকে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন ভিনিসিউস।
ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পান রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। তবে এবার তার শট ফিরিয়ে দেন পানামা গোলরক্ষক অরলান্দো মসকেরা।
চতুর্দশ মিনিটে সৌভাগ্যের ছোঁয়া থাকা গোলে সমতা ফেরায় পানামা। আমির মুরিয়োর ফ্রি কিক ঠেকাতে ঠিক দিকেই যাচ্ছিলেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন বেকার। মাঝপথে লাফিয়ে ওঠা কুইয়ার মাথায় লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে! মরিয়া চেষ্টায়ও আর বলের নাগাল পাননি আলিসন।
২৪তম মিনিটে ভিনিসিউসের কাছ থেকে ডি বক্সে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাফিনিয়া। আট মিনিট পর ইসমায়েল দিয়াসের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক। ৩৯তম মিনিটে ফের ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন কাসেমিরো। ভিনিসিউসের চমৎকার ক্রসে দারুণ হেডে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চার মিনিট পর বিপজ্জনক জায়গা থেকে রাফিনিয়ার শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। পরের মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সেসিলিও ওয়েতারমানের ক্রসে বিপদ হতে পারত। তবে ঝাঁপিয়ে কোনমতে হাত ছুঁয়ে বলের দিক পাল্টে দেন আলিসন। ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
বিরতির পর ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া বাকি ১০ জনকেই বদলে ফেলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে খেলা মার্কিনিয়োস, গাব্রিয়েলরা ছিলেন না এই ম্যাচের দলে। তারা থাকলে হয়তো ১১ পরিবর্তন আনতেন তিনি।
৫২তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এন্দ্রিক। পরের মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় ব্রাজিল। ইগো চিয়াগোর কাছ থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন হায়ান।
৬০তম মিনিটে স্কোর লাইন ৪-১ করেন লুকাস পাকেতা। ডি বক্সের মাথা থেকে এই মিডফিল্ডারের শট পানামার একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জড়ায় জালে। ঝাঁপ দিয়েও বলের নাগাল পাননি মসকেরা।৬৩তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্রাজিলের পঞ্চম গোলটি করেন চিয়াগো। তাকেই পানামা গোলরক্ষক ফাউল করায় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা।
৮১তম মিনিটে স্কোর লাইন ৬-১ করেন দানিলো সান্তোস। পাকেতার ক্রসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। দুই মিনিট পর এন্দ্রিকের শট লাফিয়ে কোনোমতে হাতবাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মসকেরা। আরেকটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয় তরুণ ফরোয়ার্ডের।
৮৪তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে আলগা বল পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন কার্লোস হার্ভে। গোল করার আরও সুযোগ পায় দুই দল। তবে কেউই সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।
আগামী রোববার নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১৪ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিপক্ষে খেলবে তারা।
বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পানামা। আগামী ১৮ জুন ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
৪
বিমানবন্দরে জব্দ ৩৪ লাখ টাকার সিগারেট
চট্টগ্রামে শারজাহ থেকে আসা এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইটের (G9-520) তিনজন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি এবং লাগেজ বেল্ট থেকে মালিকবিহীন ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে নয়টায় তিনজন যাত্রীর ব্যাগেজে ১ হাজার ২ কার্টন এবং একইসময়ে অ্যারাইভাল হলের লাগেজ বেল্টের ওপর থেকে মালিকবিহীন ৬৯৬ কার্টন সিগারেটের চালান উদ্ধার করা হয়।
যাত্রীরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মো. মোস্তফা কামাল সুমন, হাটহাজারীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তালুকদার ও রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন তালুকদার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
তিনি জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া সিগারেট ডিপার্টমেন্ট অব মেমোরেন্ডা (ডিএম) মূলে জব্দ করা হয় যা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে থাকবে।
আটক যাত্রীত্রয়কে বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা কর্তৃক মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা, বিমানবন্দর কাস্টমস ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স সহ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বোচ্চ নজরদারি চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
৫
১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
এনসিপির শীর্ষ দুই নেতা কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বলে সেখানকার প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) দিনগত রাতে ফেসবুক লাইভে আসেন এনসিপির এ নেতা। দীর্ঘ ৪৩ মিনিটের ভিডিওতে হাতেকলমে ১০ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি বলেন, ‘এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘এখানে তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে আছে। এটি চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। আমি আগেও যেসব বাজেটে এসেছে, সব হিসাব লাইভে এসে দিয়েছি।’
হাসনাত বলেন, ‘১০ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। আমি যখন নির্বাচিত হইনি—অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্বসহ সব মিলিয়ে আট কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এক টাকা কম না, এক টাকা বেশি না। ১৪৮টি খাতে এসব প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে। একটা প্রজেক্টও পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট হয়নি। এগুলো আপনারা অনলাইনে গেলেই দেখতে পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘অথচ জেলা প্রশাসক বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো আমরা টাকা নিয়ে গিয়েছি, টাকার কথা মানুষের কাছে লুকিয়েছি। এটা তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে। ইটস ভেরি ওপেন, ব্রড ডেলাইট ওপেন।’
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের এ মুখ্য সংগঠক বলেন, যারা প্রপাগান্ডা করেছেন—আপনাদের যদি চর্মচক্ষু থাকে এবং একটু জ্ঞানবুদ্ধি থাকে শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কোন খাতে কয় টাকা এবং কোন প্রক্রিয়ায় গেছে—চাইলেই সব কিছু বের করা সম্ভব।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমার এলাকার যতগুলা বরাদ্দ বাজেট এসেছে সম্প্রতি লাইভে সবগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছি। এমনটি আমার পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় প্রতিনিয়ত আপডেট জানানো হয়। সবার বাসায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে। সার্চ করলেই যে কেউ ডিটেইল দেখতে পারেন। এখন এটাকে যেভাবে ফ্রেমিং করা হলো এটা খুবই দুঃখজনক।
৬
লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরো ১৭৪ বাংলাদেশি
আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার (আটক শিবির) থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশে ফিরছেন তারা। এর মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
সোমবার (০১ জুন) সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
এর আগে রোববার (৩১ মে) লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এক ফেসবুক পোস্টে তাদের ফেরার কথা জানায়।
প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিবাসীরা লিবিয়ায় মানবপাচারের শিকার হওয়ার করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসীদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি তাদের নিজ নিজ এলাকায় লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, নির্যাতন, মানবপাচারের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতির কথা সকলের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ জানান, যাতে অন্য কেউ এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ গমনে উৎসাহিত না হয়।
এর আগে, চলতি মাসে আরো তিনটি ফ্লাইটে গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৫১৪ জনকে দেশে প্রত্যাবাসনে কাজ করছে দূতাবাস। মানবপাচারের শিকার এসব অভিবাসীরা বলছেন, এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট ও ওমরা ভিসায় ইউরোপ যাত্রার বিষয়টি বন্ধ করা না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমন আরো অনেকে।
৭
অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি : রাশেদ খান
বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উন্নয়ন বরাদ্দের নামে দেওয়া অর্থ ব্যবহার করে জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচনে সুবিধা নিয়েছে এবং এভাবেই তারা ৭৭টি আসন পেয়েছে।
সোমবার (১ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
রাশেদ খান প্রশ্ন তুলে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার উন্নয়নের জন্য কেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। তিনি জানতে চান, সে সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের কোনো উপদেষ্টা বা দায়িত্বশীল পদে ছিলেন কিনা।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকাকালে দেশের সব উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, সেটি বড় প্রশ্ন।
রাশেদ খানের ভাষ্য, যদি রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমেই উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিএনপি বা গণঅধিকার পরিষদের নেতারা কেন সেই সুবিধা পাননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জামায়াত নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজের নির্বাচনি এলাকার জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলেন। রাশেদ খানের অভিযোগ, একইভাবে জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নির্বাচনি সুবিধা দিতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত-এনসিপিকে জেতাতে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। তাহের ও হাসনাত এসব উন্নয়ন প্রকল্পকে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহার করতে পেরেছেন, কিন্তু অন্য দলের নেতারা সে সুযোগ পাননি।’
তার দাবি, অতীতে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পাওয়া একটি দল এবার ৭৭টি আসন পেয়েছে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে।
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, অন্য উপজেলার উন্নয়ন বঞ্চিত করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের বৈষম্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাহের, হাসনাত ও আসিফ সাহেবরা শুধুমাত্র নিজেদের এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে গিয়ে বৈষম্য ও দুর্নীতির জন্ম দিয়েছেন। এটি ক্ষমার অযোগ্য।’
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে এ ধরনের উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অন্যায় করেছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
৮
নিজস্ব প্রতিবেদক 













