Dhaka শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, থাকছে নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এখন থেকে নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ঢাকা সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নৌঘাটে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নৌচলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, কেবলমাত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করেই লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। সদরঘাটে বার্থিং করা (বাঁধাপ্রাপ্ত) লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ মার্চের মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করে যাত্রী ওঠা-নামা করতে হবে; লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) বাতিল ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সদরঘাট এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। কোনো লঞ্চ এই নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটির যাত্রা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌকা ও ট্রলার থেকে যাত্রী ওঠা-নামা কেবল বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত নির্ধারিত ট্রলার ঘাটেই করা যাবে এবং এই নতুন ঘাট সম্পর্কে ট্রলার চালকদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে।

এছাড়া, সদরঘাট টার্মিনালের বিপরীত দিক তথা কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে লঞ্চের সঙ্গে ট্রলার ভিড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

নৌকা বা ট্রলার দিয়ে কোনো যাত্রী কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে ওঠা-নামা করবেন না, নদীর মাঝপথে বাল্কহেড থাকতে পারবে না। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড কঠোর তদারকির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবে। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন ডিউটি করতে হবে। আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তাদের নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।

আবহাওয়া

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না : মির্জা ফখরুল

ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, থাকছে নজরদারি

প্রকাশের সময় : ০৩:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এখন থেকে নদীপথে চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে সরাসরি যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ঢাকা সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব নৌঘাটে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নৌচলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, কেবলমাত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করেই লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। সদরঘাটে বার্থিং করা (বাঁধাপ্রাপ্ত) লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ মার্চের মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র নির্ধারিত টার্মিনাল পন্টুন ব্যবহার করে যাত্রী ওঠা-নামা করতে হবে; লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা (ভয়েজ) বাতিল ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সদরঘাট এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। কোনো লঞ্চ এই নিয়ম অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটির যাত্রা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌকা ও ট্রলার থেকে যাত্রী ওঠা-নামা কেবল বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত নির্ধারিত ট্রলার ঘাটেই করা যাবে এবং এই নতুন ঘাট সম্পর্কে ট্রলার চালকদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে।

এছাড়া, সদরঘাট টার্মিনালের বিপরীত দিক তথা কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে লঞ্চের সঙ্গে ট্রলার ভিড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

নৌকা বা ট্রলার দিয়ে কোনো যাত্রী কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে ওঠা-নামা করবেন না, নদীর মাঝপথে বাল্কহেড থাকতে পারবে না। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড কঠোর তদারকির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবে। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন ডিউটি করতে হবে। আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তাদের নির্দেশনা মেনে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।