Dhaka বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার টাকা ছাপাতে চায় না : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকার টাকা ছাপাতে চায় না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে—দেশি ও বিদেশি—এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন না করে বিনিয়োগকারীদের জন্য টেকসই নীতি গ্রহণ করা হবে। তবে টাকা ছাপতে চায় না সরকার।

অর্থনীতি এমনিতেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার ওপর নির্বাচনি ইশতেহার পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ; ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার।

প্রায়ই বলা হয় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম। জিডিপির আকার নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পর্যালোচনা করবেন কি না, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, জিডিপির আকারের সঙ্গে কর-জিডিপি রেশিও—সবই সম্পর্কিত। অর্থনীতিকে যদি আমরা চাঙ্গা করতে না পারি, দিনের শেষে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়ানো কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি। আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে—দেশি ও বিদেশি এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

সেটা মাথায় রেখেই বাজেট করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে—আমরা নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারি না। নীতি পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু গার্মেন্টস খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই নতুন নতুন রপ্তানি খাতকে এগিয়ে আনতে হবে। এ জন্য গার্মেন্টস খাতের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাক-টু-ব্যাক, এলসি ও অন্যান্য সুবিধা অন্য খাতেও দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার আগামী বাজেটকে সামনে রেখে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে টাকা ছাপিয়ে নয়, বরং বিনিয়োগ বাড়িয়েই অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বাজেটের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা এতদিন উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অন্তর্ভুক্ত করেই বাজেট পরিকল্পনা করা হবে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর কথাও জানান তিনি। বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাই আমরা ডি-রেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিচ্ছি, যা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নতুন খাতগুলোও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

আবহাওয়া

সরকার টাকা ছাপাতে চায় না : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকার টাকা ছাপাতে চায় না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে—দেশি ও বিদেশি—এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন না করে বিনিয়োগকারীদের জন্য টেকসই নীতি গ্রহণ করা হবে। তবে টাকা ছাপতে চায় না সরকার।

অর্থনীতি এমনিতেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার ওপর নির্বাচনি ইশতেহার পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ; ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার।

প্রায়ই বলা হয় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম। জিডিপির আকার নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পর্যালোচনা করবেন কি না, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, জিডিপির আকারের সঙ্গে কর-জিডিপি রেশিও—সবই সম্পর্কিত। অর্থনীতিকে যদি আমরা চাঙ্গা করতে না পারি, দিনের শেষে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়ানো কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি। আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে—দেশি ও বিদেশি এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

সেটা মাথায় রেখেই বাজেট করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে—আমরা নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারি না। নীতি পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু গার্মেন্টস খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই নতুন নতুন রপ্তানি খাতকে এগিয়ে আনতে হবে। এ জন্য গার্মেন্টস খাতের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাক-টু-ব্যাক, এলসি ও অন্যান্য সুবিধা অন্য খাতেও দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার আগামী বাজেটকে সামনে রেখে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে টাকা ছাপিয়ে নয়, বরং বিনিয়োগ বাড়িয়েই অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বাজেটের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা এতদিন উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অন্তর্ভুক্ত করেই বাজেট পরিকল্পনা করা হবে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর কথাও জানান তিনি। বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাই আমরা ডি-রেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিচ্ছি, যা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নতুন খাতগুলোও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।