Dhaka মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারাজীবন ইসলামের রাজনীতি করে শেষে শরীয়া আইন চায় না জামায়াত : সংসদে পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে শেষে এসে বলছেন শরীয়া আইন চান না। আপনারা তো ভোটের জন্য ইউ হ্যাভ ডান ইট (এটা করেছেন)।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিধি-৬২’তে আনীত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, আপনারা সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করলেন, এখন ভোটের প্রয়োজনে বলছেন শরীয়া আইন চান না। তাহলে আজকে সমস্যা কী? আমরা ইতিবাচক ভালো কিছু নিয়ে আসব। আমরা সংবিধানটাকেও সম্মান করি, আবার জুলাই সনদকেও সম্মান করি। কিন্তু আপনাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান কেন?

সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় কাজটা করতে চাচ্ছেন? আপনারা সেই সময় কেন রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট (বিপ্লবী সরকার) করলেন না? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করলে আপনারা সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে পারতেন। কিন্তু পুরোনো সংবিধানের ভেতর থেকে সেই সংবিধানকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন এটা আসলে হয় না।

সংবিধান রক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? প্রয়োজনে সংশোধন বা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার দরকার কী? সংবিধানের ওপরও আমাদের রেসপেক্ট থাকতে হবে। আপনারা মনে করছেন এটা ৭১-এর পরাজয়ের দলিল, তাই এটাকে ছিঁড়ে ফেলতে চান?’

বর্তমান সংসদকে একটি ‘ইউনিক সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া চলবে না। জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না।’

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, ব্যাপার তো অনেক কমপ্লেক্স, একটা ইউনিক সিচুয়েশন। আমি আমার সম্মানিত বিরোধী দলের নেতাদের চোখে আবেগ দেখি, কথায় দেখি; তবে একটা জিনিস এটাও দেখি যে কেন জানি প্রথম থেকেই আমাদেরকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় সংসদে হট্টগোল শুরু হলে তিনি বলেন, আমাকে কথা বলতে হবে, প্লিজ। আমার আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম– বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত– বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই অ্যাটিটিউডটা দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, ডব যধাব হড় ঢ়ৎড়নষবস রিঃয ঔঁষু. আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন?

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আপনারা সেই সময় রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট কেন করেননি? কেন নরমাল গভর্মেন্টে গেলেন? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করতেন, রিট দ্য কনস্টিটিউশন, ছিঁড়ে ফেলে দিতেন। পুরোনো কনস্টিটিউশনে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে যাচ্ছেন, এটা আসলে হয় না।

জুলাই আন্দোলনে সবার অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, এখানে যারা বসা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত বছর জেল খেটেছেন? মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী কয়বার জেল খেটেছেন? আমির সাহেব, সালাউদ্দিন সাহেব বা আমি আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। কিন্তু যখনই ফ্লোর আপনাদের হাতে চলে যায় আপনারা আমাদেরকে অ্যাটাক করেন। যেন জুলাইতে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নেই।

জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের যখন ব্যান্ড করা হয়েছিল আপনারা তো কোনো কথা বলেননি। অথচ এখন আপনারা আমাদেরকে লগারহেডসে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে দেশবাসী বিভ্রান্ত।

গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, আপনারা গণভোটে চারটা কথা বলেছেন। একটা ভোটারের কাছে যদি আমি জিজ্ঞেস করি আমি একটাতে ভোট দিতে চাই না আমি কী করব? না-তে ভোট দিব? সেই জবাব নেই। আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন। এই আদেশে মাত্র চারটা বিষয়ে গণভোট করেছেন, বাকি প্রোভিশনগুলো কোথায়? তার মানে আপনারা সবই জানতেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই রেভোলিউশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। সংবিধান কেন ছিঁড়ে ফেলে দেব? আমি পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু এটাকে ছুড়ে ফেলার দরকার কী? আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না।

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানকে ‘একাত্তরের পরাজয়ের দলিল’ মনে হয় কি না সংসদের বিরোধীদল জামায়াতের উদ্দেশে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, এই যে একটি প্রক্রিয়া সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলবো কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? এই সংবিধানের নাম নিলে গাত্রদাহ কেন হবে? এতো গায়ে লাগবে কেন?

সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোথা থেকে আসছে—এমন প্রশ্ন তুলে আন্দালিব পার্থ বলেন, সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করবো। আপনারা (জামায়াতের উদ্দেশে) বসেন, কথা বলি। গণভোটে ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়লেও সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ ভোট আমরাও (বিএনপি জোট) পেয়েছি।

এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। এনসিপি ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসবেন।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদ যখন শহীদ হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। কন্ট্রিবিউশন কারো কম না। আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে লাস্টে এসে বলছেন শরীয়াহ আইন চাই না। আপনারা তো ভোটের জন্য এসব করেছেন। সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ স্ট্যান্ড করে, আমি আন্দালিব রহমান পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। তবে সিস্টেম ডিক্টেট করবেন না।

 

আবহাওয়া

বিয়ের পিঁড়িতে সিমরিন লুবাবা

সারাজীবন ইসলামের রাজনীতি করে শেষে শরীয়া আইন চায় না জামায়াত : সংসদে পার্থ

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে শেষে এসে বলছেন শরীয়া আইন চান না। আপনারা তো ভোটের জন্য ইউ হ্যাভ ডান ইট (এটা করেছেন)।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিধি-৬২’তে আনীত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, আপনারা সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করলেন, এখন ভোটের প্রয়োজনে বলছেন শরীয়া আইন চান না। তাহলে আজকে সমস্যা কী? আমরা ইতিবাচক ভালো কিছু নিয়ে আসব। আমরা সংবিধানটাকেও সম্মান করি, আবার জুলাই সনদকেও সম্মান করি। কিন্তু আপনাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান কেন?

সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় কাজটা করতে চাচ্ছেন? আপনারা সেই সময় কেন রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট (বিপ্লবী সরকার) করলেন না? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করলে আপনারা সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে পারতেন। কিন্তু পুরোনো সংবিধানের ভেতর থেকে সেই সংবিধানকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন এটা আসলে হয় না।

সংবিধান রক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? প্রয়োজনে সংশোধন বা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার দরকার কী? সংবিধানের ওপরও আমাদের রেসপেক্ট থাকতে হবে। আপনারা মনে করছেন এটা ৭১-এর পরাজয়ের দলিল, তাই এটাকে ছিঁড়ে ফেলতে চান?’

বর্তমান সংসদকে একটি ‘ইউনিক সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া চলবে না। জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না।’

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, ব্যাপার তো অনেক কমপ্লেক্স, একটা ইউনিক সিচুয়েশন। আমি আমার সম্মানিত বিরোধী দলের নেতাদের চোখে আবেগ দেখি, কথায় দেখি; তবে একটা জিনিস এটাও দেখি যে কেন জানি প্রথম থেকেই আমাদেরকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় সংসদে হট্টগোল শুরু হলে তিনি বলেন, আমাকে কথা বলতে হবে, প্লিজ। আমার আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম– বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত– বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই অ্যাটিটিউডটা দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, ডব যধাব হড় ঢ়ৎড়নষবস রিঃয ঔঁষু. আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন?

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আপনারা সেই সময় রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট কেন করেননি? কেন নরমাল গভর্মেন্টে গেলেন? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্মেন্ট করতেন, রিট দ্য কনস্টিটিউশন, ছিঁড়ে ফেলে দিতেন। পুরোনো কনস্টিটিউশনে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে যাচ্ছেন, এটা আসলে হয় না।

জুলাই আন্দোলনে সবার অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, এখানে যারা বসা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত বছর জেল খেটেছেন? মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী কয়বার জেল খেটেছেন? আমির সাহেব, সালাউদ্দিন সাহেব বা আমি আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। কিন্তু যখনই ফ্লোর আপনাদের হাতে চলে যায় আপনারা আমাদেরকে অ্যাটাক করেন। যেন জুলাইতে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নেই।

জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের যখন ব্যান্ড করা হয়েছিল আপনারা তো কোনো কথা বলেননি। অথচ এখন আপনারা আমাদেরকে লগারহেডসে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে দেশবাসী বিভ্রান্ত।

গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, আপনারা গণভোটে চারটা কথা বলেছেন। একটা ভোটারের কাছে যদি আমি জিজ্ঞেস করি আমি একটাতে ভোট দিতে চাই না আমি কী করব? না-তে ভোট দিব? সেই জবাব নেই। আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন। এই আদেশে মাত্র চারটা বিষয়ে গণভোট করেছেন, বাকি প্রোভিশনগুলো কোথায়? তার মানে আপনারা সবই জানতেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই রেভোলিউশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। সংবিধান কেন ছিঁড়ে ফেলে দেব? আমি পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু এটাকে ছুড়ে ফেলার দরকার কী? আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না।

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানকে ‘একাত্তরের পরাজয়ের দলিল’ মনে হয় কি না সংসদের বিরোধীদল জামায়াতের উদ্দেশে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, এই যে একটি প্রক্রিয়া সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলবো কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? এই সংবিধানের নাম নিলে গাত্রদাহ কেন হবে? এতো গায়ে লাগবে কেন?

সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোথা থেকে আসছে—এমন প্রশ্ন তুলে আন্দালিব পার্থ বলেন, সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করবো। আপনারা (জামায়াতের উদ্দেশে) বসেন, কথা বলি। গণভোটে ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়লেও সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ ভোট আমরাও (বিএনপি জোট) পেয়েছি।

এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। এনসিপি ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসবেন।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদ যখন শহীদ হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। কন্ট্রিবিউশন কারো কম না। আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে লাস্টে এসে বলছেন শরীয়াহ আইন চাই না। আপনারা তো ভোটের জন্য এসব করেছেন। সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ স্ট্যান্ড করে, আমি আন্দালিব রহমান পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। তবে সিস্টেম ডিক্টেট করবেন না।