নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদের সাউন্ড ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া জটিলতা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখবে কমিটি। পাশাপাশি সাউন্ড ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা ধারণা করেন এখানে একটা সাবোটাজ হয়েছে। ওই ঘটনা তদন্ত করার জন্য সার্জেন্ট এট আর্মসের (সংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা সংস্থা) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আসলেই সাউন্ড সিস্টেমের যে সমস্যা আছে, তা দেখার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
চিফ হুইপ বলেন, তদন্ত কমিটি প্রধানত দুটো বিষয় দেখবে। প্রথমত, এখানে কোনো সাবোটাজ হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, সাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা কী, তার সমাধান কীভাবে করা যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, হেডফোন নিয়ে সবার অভিযোগ আছে। তার নিজেরও অভিযোগ আছে। এত বড় ঢাউস একটা হেডফোন মাথায় দিয়ে মাথা, কান গরম হয়ে যায়। হেডফোন পরিবর্তন করা হবে।
সাউন্ড সিস্টেম সংস্কারে কেন দেরি হলো– এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচনের দিনেও অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবকিছু নিয়মমাফিক চালিয়ে নিতে।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন ও চিকিৎসাসুবিধা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মোটামুটি সব সংসদ সদস্য আবাসনসুবিধা পাবেন। স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিপ হুইপ, হুইপ—তাদের জন্য আলাদা বাসভবনের ব্যবস্থা আছে। বাকি সংসদ সদস্যদের সবার আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাটগুলোয় প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস কিনতে হবে, সেগুলো কেনা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের বাসা বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন এবং চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধার জন্য কাছাকাছি থাকা দরকার, সেজন্য তাদের সংসদের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা হচ্ছে। সব সদস্যকে আবাসনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করি। ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা। আগামী ৩০ মার্চ হাউজ কমিটির আরেকটি বৈঠক আছে। বাসা বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্যরা সে বাসা নিজেরাই ব্যবহার করবেন বলে প্রত্যাশা, কারণ সেটিই সঙ্গত।
তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনে অডিও বিভ্রাট এবং কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৩ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দিবে।
এ ছাড়া তিনি জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম ও মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)।
এদিকে, বিকাল ৪টায় সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে ওই বৈঠক হবে। বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর থেকেই সংসদীয় কার্যক্রমকে নিয়মিত ও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























