নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদনপত্রে ভিসির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের মূল পদে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফেরার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যের মতামত জানতে চান এবং এক্ষেত্রে তার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বৃহত্তর শিক্ষাখাতের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রী দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় উপাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় সকালে তার অব্যাহতিপত্র জমা দিয়ে গেছেন। এটি গ্রহণ করা বা না করার এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির।”
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর পরিবর্তনের হাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও পরিবর্তন আসে। ওই বছর ২৭ অগাস্ট ভিসির দায়িত্ব পান ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান বলে জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি করছি না, পদত্যাগ করে চলে যাচ্ছি না। আমি সরকারকে একটি সুযোগ দিচ্ছি—তারা যেন প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে। তবে ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে আমার একটি বিশেষ অনুরোধ থাকবে। এটি জাতির বিশ্ববিদ্যালয়—কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়।
উপাচার্য তখন আরো বলেছিলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে এক ক্রান্তিকালীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল, হলগুলো ছিল অনিশ্চিত অবস্থায়, আর প্রশাসনিক কাঠামো ছিল প্রায় অচল। সেই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ফের চালু করা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















