Dhaka শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার শেষে বাসায় তানিয়া বৃষ্টি

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০২ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার শেষে অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। রাজধানীর একটি হাসপাতালে গত রোববার তার এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকরা।

অস্ত্রোপচারের পর টানা ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন এই অভিনেত্রী। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সার্জারিটি সফল হয়েছে এবং অপারেশনের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এ নিয়ে তানিয়া বৃষ্টি বা তার পরিবারের কেউ কোনো বক্তব্য দেননি। তবে নাট্যনির্মাতা সকাল আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তানিয়া বাড়িতে ফিরেছে। তার পরিবোরের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, কমপক্ষে একমাস পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা। তাছাড়া আরো কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।

কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে ৪ ঘণ্টাব্যাপী মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারে কোনো জটিলতা হয়নি। তবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য তাদের। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি তানিয়া বৃষ্টিকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে।

বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর-ঠান্ডা ও শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন তানিয়া বৃষ্টি। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে।

পরে রাজধানীর আরেকটি হাসপাতালে পুনরায় পরীক্ষা করানো হলে একই ফলাফল আসে। এরপর সেখানে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান নির্মাতা সকাল আহমেদ।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্রেন টিউমারের খবরটি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পোস্টে দেখা যায়, এক তোড়া ফুল হাতে হাসপাতালের বিছানায় বসে আছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। পরিবার থেকে ফুল পেয়েছি। আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। আগামীকাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থকালীন সময় কাজ সংক্রান্ত কোনো ফোন না দেওয়ার জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি আপু বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এই মুহূর্তে তার সম্পূর্ণ বিশ্রাম এবং চিকিৎসার প্রয়োজন। অনুরোধ করছি, শুটিং ডেট বা কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোন বা মেসেজ দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশাআল্লাহ তিনি নিজেই সবাইকে জানাবেন।’

মুন্সীগঞ্জের মেয়ে তানিয়া বৃষ্টি ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর নাম লেখান টিভি নাটকে। তবে বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে অভিনয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন।

২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তানিয়া বৃষ্টি। এরপর বেশ কটি সিনেমায় কাজ করেন। তবে বড় পর্দার চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করে অধিক খ্যাতি কুড়ান এই অভিনেত্রী।

২০১৯ সালে মুক্তি পায় তানিয়া বৃষ্টি অভিনীত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমা। এটি তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় তার কাজের কথাও ছিল। আর এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া বৃষ্টি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ : জাইমা রহমান

ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার শেষে বাসায় তানিয়া বৃষ্টি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার শেষে অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। রাজধানীর একটি হাসপাতালে গত রোববার তার এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকরা।

অস্ত্রোপচারের পর টানা ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন এই অভিনেত্রী। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সার্জারিটি সফল হয়েছে এবং অপারেশনের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এ নিয়ে তানিয়া বৃষ্টি বা তার পরিবারের কেউ কোনো বক্তব্য দেননি। তবে নাট্যনির্মাতা সকাল আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তানিয়া বাড়িতে ফিরেছে। তার পরিবোরের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, কমপক্ষে একমাস পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা। তাছাড়া আরো কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।

কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে ৪ ঘণ্টাব্যাপী মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারে কোনো জটিলতা হয়নি। তবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য তাদের। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি তানিয়া বৃষ্টিকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে।

বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর-ঠান্ডা ও শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন তানিয়া বৃষ্টি। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে।

পরে রাজধানীর আরেকটি হাসপাতালে পুনরায় পরীক্ষা করানো হলে একই ফলাফল আসে। এরপর সেখানে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান নির্মাতা সকাল আহমেদ।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্রেন টিউমারের খবরটি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পোস্টে দেখা যায়, এক তোড়া ফুল হাতে হাসপাতালের বিছানায় বসে আছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। পরিবার থেকে ফুল পেয়েছি। আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। আগামীকাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থকালীন সময় কাজ সংক্রান্ত কোনো ফোন না দেওয়ার জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি আপু বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এই মুহূর্তে তার সম্পূর্ণ বিশ্রাম এবং চিকিৎসার প্রয়োজন। অনুরোধ করছি, শুটিং ডেট বা কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোন বা মেসেজ দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশাআল্লাহ তিনি নিজেই সবাইকে জানাবেন।’

মুন্সীগঞ্জের মেয়ে তানিয়া বৃষ্টি ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর নাম লেখান টিভি নাটকে। তবে বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে অভিনয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন।

২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তানিয়া বৃষ্টি। এরপর বেশ কটি সিনেমায় কাজ করেন। তবে বড় পর্দার চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করে অধিক খ্যাতি কুড়ান এই অভিনেত্রী।

২০১৯ সালে মুক্তি পায় তানিয়া বৃষ্টি অভিনীত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমা। এটি তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় তার কাজের কথাও ছিল। আর এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া বৃষ্টি।