Dhaka শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ, বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট জেলা প্রতিনিধি :

বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টানা কয়েক মাস ধরে ঋণাত্মক থাকাকে অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটি মাত্র পণ্যের ওপর অতি নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার এখনই সময়।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রপ্তানি বাস্কেট বড় করা, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং এর পরিসর বাড়াতে হলে ডাইভারসিফিকেশন বা বৈচিত্র্য আনার কোনো বিকল্প নেই।

আগামী দিনে এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ। সিলেটের স্থানীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সিলেটে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বিনিয়োগ লাগবে। বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

এই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একটি সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, দুই দিনের এই সফরকালে তিনি সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে; আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।’

সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতাহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ, বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১২:১৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি :

বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টানা কয়েক মাস ধরে ঋণাত্মক থাকাকে অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটি মাত্র পণ্যের ওপর অতি নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার এখনই সময়।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রপ্তানি বাস্কেট বড় করা, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং এর পরিসর বাড়াতে হলে ডাইভারসিফিকেশন বা বৈচিত্র্য আনার কোনো বিকল্প নেই।

আগামী দিনে এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ। সিলেটের স্থানীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সিলেটে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বিনিয়োগ লাগবে। বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।

এই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একটি সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, দুই দিনের এই সফরকালে তিনি সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করবেন।

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে; আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।’

সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতাহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বড় বড় ডিজিটাল স্কিম গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে বর্তমান বিশ্বে অন্যরা আমাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবে। আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।

সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।