Dhaka রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আল জাজিরার প্রতিবেদন

বিএনপির বিজয়ে পরিবর্তনের বার্তা, ‘আরো ভালো বাংলাদেশ’ প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

বাংলাদেশে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে দলটি আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল বেলা। ঢাকার গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় মোড় নিলেন রিকশাচালক আনোয়ার পাগলা। তার রিকশার হুডের এক পাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, অন্যপাশে বিএনপির দলীয় পতাকা লাগানো ছিল। তিনি এই দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

আনোয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, লোকে আমাকে পাগল বলে। কারণ, আমি মনে করি, এই দলই আমার জীবনের সবকিছু। তবে (লোকে কী মনে করল) তাতে কিছু যায়–আসে না। আমরা জিতেছি এবং বাংলাদেশ এখন আরও ভালো হবে।

প্রায় দুই দশক পর আবার ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবারের সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের কথা আছে নতুন মন্ত্রিসভার।

শনিবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। নির্বাচনে মধ্যডানপন্থি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টিতে জিতেছে। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও দেশের বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন গত শুক্রবার সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ নির্বাচনি প্রচারে তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আবার যাত্রা শুরু করবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের ভোট মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনায় অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ তুললেও শনিবার নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিল বিএনপি। দুই দশক পর তার ছেলে তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরল।

শুক্রবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের কর্মী কামাল হোসেন উল্লসিত জনতার ভিড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি সেসব দিনের কথা স্মরণ করেন, যা তিনি ‘দমন-পীড়নের বছর’ বলে বর্ণনা করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে কামাল বলেন, ‘অনেক দিন পর্যন্ত আমার মনে হয়েছিল, শেখ হাসিনার শাসন বোধ হয় কখনো শেষ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার মানুষ আমাদের দেশ শাসনের সুযোগ দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে ফিরে পেয়েছি।’

কামাল হোসেন আরও বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তার ভাষায়, নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্যদিকে অনেক তরুণ বেকার। সরকারকে এ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।

এদিকে নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার রাজধানী ঢাকা অস্বাভাবিক রকমের শান্ত ছিল। এদিন রাজধানী শান্ত থাকার পেছনে পরিকল্পনা ছিল। বিএনপি বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও শুক্রবার শান্ত দেখা গেছে। তবে কার্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন সমর্থক হতাশা প্রকাশ করেন।

কার্যালয়ের পাশে জামায়াতের সমর্থক আবদুস সালামের অভিযোগ, ‘ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় কৌশল প্রয়োগ হয়েছে। আর সংবাদমাধ্যম জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে পক্ষপাত করেছে।’

অন্যদিকে জার্মানিতে বসবাসকারী জামায়াতের সমর্থক মুয়াজ আবদুল্লাহ বলেন, সংগঠনের ব্যর্থতার কারণে জামায়াত পরাজিত হয়েছে।

মুয়াজ আরও বলেন, ‘অনেক এলাকায় জামায়াত ভালো নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেনি। কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে তাদের ঠিকমতো প্রতিনিধি পর্যন্ত ছিল না।’

বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন এক জোটে থাকলেও এ নির্বাচনে তারা ছিল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচনি প্রচারের সময় বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে অনলাইনে তীব্র বিভাজন দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে দলটির কর্মী সুজন মিয়া মৈত্রীর সুরে বলেন, ‘আমরা শত্রুতা চাই না। আমাদের দেশ গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

‘জবান’ নামে বাংলাদেশের একটি সাময়িকীর সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপির জয় বাংলাদেশের ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এক অর্থে দেশের রাজনীতিকে সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত করেছে।’

তবে আসল পরীক্ষা সবে শুরু হয়েছে বলে সতর্ক করেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘ভালো শাসন নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখা ও অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ।’ এগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের ‘আকাঙ্ক্ষার মূলভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বিএনপি এখন পুরোনো রাজনৈতিক অভ্যাসের বাইরে যেতে জনগণ ও বিরোধী দলের চাপের মুখে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার দমনমূলক বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে ফিরলে সংস্কারবাদীরা হতাশ হবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা পিছিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের ফলাফল সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলের জন্য তুলনামূলকভাবে কম টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান ও চীন উভয়ে বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে। তবে ভারত বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে অনেক বেশি পছন্দ করে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আল জাজিরার প্রতিবেদন

বিএনপির বিজয়ে পরিবর্তনের বার্তা, ‘আরো ভালো বাংলাদেশ’ প্রত্যাশা

প্রকাশের সময় : ০১:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

বাংলাদেশে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে দলটি আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল বেলা। ঢাকার গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় মোড় নিলেন রিকশাচালক আনোয়ার পাগলা। তার রিকশার হুডের এক পাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, অন্যপাশে বিএনপির দলীয় পতাকা লাগানো ছিল। তিনি এই দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

আনোয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, লোকে আমাকে পাগল বলে। কারণ, আমি মনে করি, এই দলই আমার জীবনের সবকিছু। তবে (লোকে কী মনে করল) তাতে কিছু যায়–আসে না। আমরা জিতেছি এবং বাংলাদেশ এখন আরও ভালো হবে।

প্রায় দুই দশক পর আবার ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবারের সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের কথা আছে নতুন মন্ত্রিসভার।

শনিবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। নির্বাচনে মধ্যডানপন্থি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টিতে জিতেছে। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও দেশের বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন গত শুক্রবার সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ নির্বাচনি প্রচারে তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আবার যাত্রা শুরু করবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের ভোট মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনায় অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ তুললেও শনিবার নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিল বিএনপি। দুই দশক পর তার ছেলে তারেক রহমানের হাত ধরে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরল।

শুক্রবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের কর্মী কামাল হোসেন উল্লসিত জনতার ভিড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি সেসব দিনের কথা স্মরণ করেন, যা তিনি ‘দমন-পীড়নের বছর’ বলে বর্ণনা করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে কামাল বলেন, ‘অনেক দিন পর্যন্ত আমার মনে হয়েছিল, শেখ হাসিনার শাসন বোধ হয় কখনো শেষ হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার মানুষ আমাদের দেশ শাসনের সুযোগ দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে ফিরে পেয়েছি।’

কামাল হোসেন আরও বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তার ভাষায়, নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্যদিকে অনেক তরুণ বেকার। সরকারকে এ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।

এদিকে নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার রাজধানী ঢাকা অস্বাভাবিক রকমের শান্ত ছিল। এদিন রাজধানী শান্ত থাকার পেছনে পরিকল্পনা ছিল। বিএনপি বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও শুক্রবার শান্ত দেখা গেছে। তবে কার্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন সমর্থক হতাশা প্রকাশ করেন।

কার্যালয়ের পাশে জামায়াতের সমর্থক আবদুস সালামের অভিযোগ, ‘ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় কৌশল প্রয়োগ হয়েছে। আর সংবাদমাধ্যম জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে পক্ষপাত করেছে।’

অন্যদিকে জার্মানিতে বসবাসকারী জামায়াতের সমর্থক মুয়াজ আবদুল্লাহ বলেন, সংগঠনের ব্যর্থতার কারণে জামায়াত পরাজিত হয়েছে।

মুয়াজ আরও বলেন, ‘অনেক এলাকায় জামায়াত ভালো নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেনি। কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে তাদের ঠিকমতো প্রতিনিধি পর্যন্ত ছিল না।’

বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন এক জোটে থাকলেও এ নির্বাচনে তারা ছিল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচনি প্রচারের সময় বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে অনলাইনে তীব্র বিভাজন দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে দলটির কর্মী সুজন মিয়া মৈত্রীর সুরে বলেন, ‘আমরা শত্রুতা চাই না। আমাদের দেশ গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

‘জবান’ নামে বাংলাদেশের একটি সাময়িকীর সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপির জয় বাংলাদেশের ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এক অর্থে দেশের রাজনীতিকে সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত করেছে।’

তবে আসল পরীক্ষা সবে শুরু হয়েছে বলে সতর্ক করেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘ভালো শাসন নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখা ও অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ।’ এগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের ‘আকাঙ্ক্ষার মূলভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বিএনপি এখন পুরোনো রাজনৈতিক অভ্যাসের বাইরে যেতে জনগণ ও বিরোধী দলের চাপের মুখে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার দমনমূলক বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে ফিরলে সংস্কারবাদীরা হতাশ হবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা পিছিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের ফলাফল সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলের জন্য তুলনামূলকভাবে কম টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান ও চীন উভয়ে বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে। তবে ভারত বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে অনেক বেশি পছন্দ করে।