Dhaka বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইইউ পর্যবেক্ষকরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শুধু ভোট পর্যবেক্ষণ করছে : ইভার্স ইজাবস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না। তারা কেবল ভোট পর্যবেক্ষণ করছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহী এবং আশা করছেন, এবারের নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য।

ইভার্স বলেন, আমরা দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে অনেক ইতিবাচক উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি। আশা করি, বিকেল পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকালের মতো বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসাহের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইজাবস উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই শীর্ষ পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন যে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং তারা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নন। বর্তমানে সারাদেশে তাদের পর্যবেক্ষকরা ছড়িয়ে রয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, এই তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যাতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। তিনি মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের এই ব্যাপক উপস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচন পরিচালনার গুণমান এবং সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে ইইউ মিশন খুব শীঘ্রই তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করবে। ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে এই নির্বাচনটি ঠিক কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের চিত্র কেমন ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। তিনি বলেন যে, তাদের কাজ মূলত পর্যবেক্ষণ করা এবং তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ঢাকার একটি সুন্দর ভোটকেন্দ্রে আছি। বিকেল পর্যন্ত আরও অনেক কেন্দ্র পরিদর্শন করব, যাতে তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল তৈরি করা যায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মিশনে ২০০-এর বেশি পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে এবং তারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ করছে।

কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনকালে ইইউ মিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন্দ্রের বুথগুলোতে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিই এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অনুশীলন : কমনওয়েলথ

ইইউ পর্যবেক্ষকরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, শুধু ভোট পর্যবেক্ষণ করছে : ইভার্স ইজাবস

প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না। তারা কেবল ভোট পর্যবেক্ষণ করছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহী এবং আশা করছেন, এবারের নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য।

ইভার্স বলেন, আমরা দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে অনেক ইতিবাচক উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছি। আশা করি, বিকেল পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকালের মতো বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসাহের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইজাবস উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই শীর্ষ পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন যে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং তারা কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নন। বর্তমানে সারাদেশে তাদের পর্যবেক্ষকরা ছড়িয়ে রয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, এই তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যাতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। তিনি মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের এই ব্যাপক উপস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচন পরিচালনার গুণমান এবং সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে ইইউ মিশন খুব শীঘ্রই তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করবে। ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে এই নির্বাচনটি ঠিক কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের চিত্র কেমন ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। তিনি বলেন যে, তাদের কাজ মূলত পর্যবেক্ষণ করা এবং তথ্য সংগ্রহ করা, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ঢাকার একটি সুন্দর ভোটকেন্দ্রে আছি। বিকেল পর্যন্ত আরও অনেক কেন্দ্র পরিদর্শন করব, যাতে তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল তৈরি করা যায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মিশনে ২০০-এর বেশি পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে এবং তারা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ করছে।

কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনকালে ইইউ মিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন্দ্রের বুথগুলোতে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিই এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বড় মাপকাঠি হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের ধারণা।