Dhaka বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, স্টেশনে পৌঁছাবেই : সিইসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৬ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাবেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকের এ সব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, আমরা জাতির কাছে ওয়াদা করেছিলাম একটি উৎসবমুখর পরিবেশের ভোট জাতিকে উপহার দেব। এই কয় দিনে ঈদের সময়ের মতো মানুষ ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে করে উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামেগঞ্জে চলে গেছে ভোট দেওয়ার জন্য। গ্রামেগঞ্জে মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিচ্ছে। অনেক দিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পেরে তারাও উদ্বেলিত। আমি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানতে পেরেছি, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। দু-একটি জায়গায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু গোলমাল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে জানিয় বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষে নয় এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে।

সিইসি বলেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা আপনারাই বলবেন। আমরা কারও পক্ষে নই, আমরা নিরপেক্ষ।” অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অতীতের বিষয়—এগুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো সমস্যা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নির্বাচনকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোই কমিশনের লক্ষ্য। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সে অঙ্গীকারে কমিশন অটল রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং অতীতের কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনাই তাদের উদ্দেশ্য।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কেউ যেন কোনো পক্ষ না নেন এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই কমিশন দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

সিইসির কথায়, অনেকদিন পরে ভোটের ‘একটা আমেজ যে সৃষ্টি হয়েছে’।

তিনি বলেন, সবাই ভোট দিতে পারবে, এই আনন্দ তাদেরও উদ্বেলিত করছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব এবং সেই লক্ষ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি। সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা ইনশআল্লাহ।

এ দেশে আর কোনো ‘পাতানো নির্বাচন হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। আমার পক্ষে না, আবার কারো বিপক্ষেও না।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত নেতার একসঙ্গে একসঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত ঠাকুরগাঁওয়ে কেন্দ্রের মাঠে জামায়াতের একজন লিডার পাশে একজন বিএনপির লিডার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছে; হাসিখুশি কথা বলছে এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা চাই বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেল এই ট্রেন ইনশাল্লাহ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবে আপনাদের সবার সহযোগিতায়। আপনারা জানেন ২০২৬ সালে সারা বিশ্বে সবচাইতে বড় একটা নির্বাচন দিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় নির্বাচন আর এ বছরে কোথাও হয় নাই।

আগের দিন বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, “গতকাল দিনের বেলায় যে বিদেশি অবজারভার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি। বিভিন্ন দেশের চিফ ইলেকশন কমিশনাররা আমার সাথে দেখা করেছেন। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি, তারা অত্যন্ত আনন্দিত আমাদের অ্যারেঞ্জমেন্ট দেখে। ক্যান ইউ ইমাজিন আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে? এই ইলেকশনটা কন্ডাক্ট করার জন্য সাড়ে ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় আট লক্ষ হচ্ছে যে পোল কালেক্টর যারা বুথ কালেকশন করবেন; এই সাড়ে ১৭ লক্ষ লোককে এক সুতোই গাঁথা এটা যে একটা কত কঠিন কাজ আপনারা একবার একটু কল্পনা করে দেখুন। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এখানে আছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আছে বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন আছে সবাইকে নিয়ে এবং সবাইকে প্রশিক্ষিত করে ট্রেনিং দিয়ে ইলেকশন ওরিয়েন্টেড ট্রেনিং দিয়ে সবাইকে এই যে কাজে লাগানো হয়েছে এই যে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ আমার মনে হয়, এর চাইতে বড় কোঅর্ডিনেশনের কাজ আর নাই।

সিইসি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা জানি না সামনে আরো কী চ্যালেঞ্জ আসবে। ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে, গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৮৩ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ইসি কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে আজ দেশের মোট ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ভোটাররা সংসদীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রশ্নে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দেশবাসীকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি সুষ্ঠু ফলাফল উপহার দিতে ইসি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, স্টেশনে পৌঁছাবেই : সিইসি

প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাবেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকের এ সব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, আমরা জাতির কাছে ওয়াদা করেছিলাম একটি উৎসবমুখর পরিবেশের ভোট জাতিকে উপহার দেব। এই কয় দিনে ঈদের সময়ের মতো মানুষ ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে করে উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামেগঞ্জে চলে গেছে ভোট দেওয়ার জন্য। গ্রামেগঞ্জে মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিচ্ছে। অনেক দিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পেরে তারাও উদ্বেলিত। আমি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানতে পেরেছি, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। দু-একটি জায়গায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু গোলমাল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে জানিয় বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষে নয় এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে।

সিইসি বলেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটাররা আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা আপনারাই বলবেন। আমরা কারও পক্ষে নই, আমরা নিরপেক্ষ।” অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অতীতের বিষয়—এগুলোকে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো সমস্যা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নির্বাচনকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোই কমিশনের লক্ষ্য। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সে অঙ্গীকারে কমিশন অটল রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং অতীতের কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনাই তাদের উদ্দেশ্য।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কেউ যেন কোনো পক্ষ না নেন এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই কমিশন দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

সিইসির কথায়, অনেকদিন পরে ভোটের ‘একটা আমেজ যে সৃষ্টি হয়েছে’।

তিনি বলেন, সবাই ভোট দিতে পারবে, এই আনন্দ তাদেরও উদ্বেলিত করছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব এবং সেই লক্ষ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি। সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা ইনশআল্লাহ।

এ দেশে আর কোনো ‘পাতানো নির্বাচন হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। আমার পক্ষে না, আবার কারো বিপক্ষেও না।

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত নেতার একসঙ্গে একসঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত ঠাকুরগাঁওয়ে কেন্দ্রের মাঠে জামায়াতের একজন লিডার পাশে একজন বিএনপির লিডার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছে; হাসিখুশি কথা বলছে এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা চাই বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেল এই ট্রেন ইনশাল্লাহ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবে আপনাদের সবার সহযোগিতায়। আপনারা জানেন ২০২৬ সালে সারা বিশ্বে সবচাইতে বড় একটা নির্বাচন দিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় নির্বাচন আর এ বছরে কোথাও হয় নাই।

আগের দিন বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, “গতকাল দিনের বেলায় যে বিদেশি অবজারভার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি। বিভিন্ন দেশের চিফ ইলেকশন কমিশনাররা আমার সাথে দেখা করেছেন। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি, তারা অত্যন্ত আনন্দিত আমাদের অ্যারেঞ্জমেন্ট দেখে। ক্যান ইউ ইমাজিন আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে? এই ইলেকশনটা কন্ডাক্ট করার জন্য সাড়ে ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় আট লক্ষ হচ্ছে যে পোল কালেক্টর যারা বুথ কালেকশন করবেন; এই সাড়ে ১৭ লক্ষ লোককে এক সুতোই গাঁথা এটা যে একটা কত কঠিন কাজ আপনারা একবার একটু কল্পনা করে দেখুন। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এখানে আছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আছে বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন আছে সবাইকে নিয়ে এবং সবাইকে প্রশিক্ষিত করে ট্রেনিং দিয়ে ইলেকশন ওরিয়েন্টেড ট্রেনিং দিয়ে সবাইকে এই যে কাজে লাগানো হয়েছে এই যে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ আমার মনে হয়, এর চাইতে বড় কোঅর্ডিনেশনের কাজ আর নাই।

সিইসি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা জানি না সামনে আরো কী চ্যালেঞ্জ আসবে। ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে, গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৮৩ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ইসি কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে আজ দেশের মোট ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ভোটাররা সংসদীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রশ্নে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দেশবাসীকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি সুষ্ঠু ফলাফল উপহার দিতে ইসি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।