নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশন এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ ইসির অন্যান্য কমিশনার, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়েল। প্রত্যেকটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকেল ৪টার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে শুধুমাত্র সেগুলোই গণনা করা হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থানা থেকে লুট হওয়া ৯ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে ভোটকেন্দ্রগুলো।
সানাউল্লাহ বলেন, দ্বৈত নাগরিকরা ভোট দিতে পারবেন। এটা নিয়ে কোনো সাংবিধানিক বাঁধা নেই। তবে, দ্বৈত নাগরিকত্ব রেখে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীকে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে।
পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী ভোটকেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা কেন্দ্রের সবখানে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। কেন্দ্রে মোবাইল ও ক্যামেরাও ব্যবহার করতে পারবেন। শুধুমাত্র ভোট কাস্টিং রুমের কোনো ছবি তারা নিতে পারবেন না।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সব পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী গত বছরের জুলাইয়ের আদেশের আওতায় ভোটকেন্দ্রে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। ভোটাররা ক্যামেরা ও ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট সংগ্রহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমাদের দেশে নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন এবার সব শ্রেণির মানুষের ভোটে সরকার গঠন করা হবে। তার সেই সিদ্ধান্তে আমরা প্রবাসী ও কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের আয়োজন করেছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৮০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর একটি দেশে দীর্ঘ বছর পর সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এখানে ৩০০ সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে। এর বাইরে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হবে।
প্রার্থীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক প্রার্থী নির্বাচনে ২.৫ মিলিয়ন টাকা খরচ করতে পারবেন। প্রতি ভোটারের বিপরীতে ১০ টাকা হারে, এই খরচ করতে পারবেন।
এবার প্রায় ১০ হাজার সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন বলেও জানান তিনি। দেড় দশক ধরে জাতি ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার সব ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী, যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হতে পারে- পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর নির্ভর করে। তারা যেমনটা চাইবে, তেমনই হবে। তবে, আমরা আশা করছি সম্পর্কে উন্নতি হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















