নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (বহিষ্কৃত)-কে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থি বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপি বাদে অন্য দলকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন এই বিএনপি নেতা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই আসনের গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
ওই মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রীতিমতো তা ভাইরাল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।
ভাইরাল ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে শোনা যায়, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’
যদিও বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ওসব ছিল ‘কথার কথা’।
তার কথায়, ‘বিষয়টি ছিল মূলত কথার কথা। আসলে যখন ওই উঠান বৈঠক হয়, তখন প্রায় রাত দুইটা বাজে। আমি খুবই টায়ার্ড ছিলাম। কারণ, সকাল ৯টায় বের হয়েছি। সারাদিন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি সভা ও উঠান বৈঠক করেছি। আমি অনেক ক্লান্ত ছিলাম। এমন সময়ে কথার কথা বলতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের কথাটি বলেছি। এর বাইরে কিছু নয়।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী বলেন, ‘ওনার (মুঞ্জুরুল আহসান) এমন মন্তব্যে আমরা বিব্রত। এই বক্তব্য বা মন্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত। এটির দায়ভার দল বহন করবে না। তার এই মন্তব্য দলীয় কোনো বক্তব্য নয়।’
আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
তবে মঞ্জুরুল আহসান আটকে যান নির্বাচন কমিশনে। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন একই আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী।
এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির এই নেতা। সুফল মেলেনি। সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে লিভ টু আপিলও করেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি তার আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ভোটের মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে ঠিটকে পড়েন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























