নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবো।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে দেওয়া ভাষণে রেজাউল করীম এসব বলেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বিভিন্ন কৌশলে দুর্নীতি রোধ করা হবে। আর্থিক খাতে সচ্ছতা জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক প্রকাশ্যে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেওয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়-ই নয় বরং একইসঙ্গে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
রেজাউল করীম তরুণদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে ও পরিবর্তনের পক্ষে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনে কর্তব্যরতদের সব ধরনের ভয়-প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনতার স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভাষণে রেজাউল করীম নির্বাচনে নিজ দলের অঙ্গীকার, রাষ্ট্রগঠনে ও সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন এবং ইশতেহারের মৌলিক অংশসহ বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
চরমোনাই পীর রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রচলিত মূলনীতির বদলে নতুন মূলনীতি প্রস্তাব করে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শরীয়াহ কেবলই একটি আইনের নাম নয় বরং শরীয়াহ হলো, মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসেবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে, অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে; ইনশাআল্লাহ।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সন্মান-মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
চরমোনাই পীর বলেন, আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোন খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে।
বক্তব্যে ইশতেহার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঁচটি ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমভাগে রয়েছে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান। সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ,সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অধিকার-সম্মানর রক্ষায় প্রতিশ্রুতি, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগীতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন ও নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়।
পরের ভাগে রাষ্ট্র সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। সেখানে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সেবাভিত্তিক দড়্গ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ,স্বনির্ভর শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















