Dhaka শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এখনই সময়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে বিএনপি সুনির্দিষ্ট ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাকেই তারেক রহমানের তার আইকনিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা থেকেই বিএনপির পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের সুদৃশ্য ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাকেই তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় দেশের চার কোটিরও বেশি তরুণ, মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং কোটি কোটি কৃষক ও শ্রমিকের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তা আবার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, একসময় সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ এবং এর নিচে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-কে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদেও এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই বিষয়টি ছিল না; ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এটি সংযোজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ হিসেবে স্বীকৃতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃসংযোজন করা হয় এবং মূলনীতি থেকে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দেওয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও জনগণের বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হলে এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এই অঙ্গীকার যুক্ত করেছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাদের নামে আঞ্চলিক অবকাঠামোর নামকরণ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, শহিদরা যেসব এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, সেই সব এলাকায় সড়ক, সেতু, হাসপাতালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো তাদের নামে করা হবে, যাতে তাদের আত্মত্যাগ বিস্মৃত না হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এখনই সময়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে বিএনপি সুনির্দিষ্ট ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাকেই তারেক রহমানের তার আইকনিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা থেকেই বিএনপির পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের সুদৃশ্য ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাকেই তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় দেশের চার কোটিরও বেশি তরুণ, মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং কোটি কোটি কৃষক ও শ্রমিকের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তা আবার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, একসময় সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ এবং এর নিচে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’-কে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদেও এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই বিষয়টি ছিল না; ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এটি সংযোজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ হিসেবে স্বীকৃতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃসংযোজন করা হয় এবং মূলনীতি থেকে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাদ দেওয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও জনগণের বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হলে এসব বিষয় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এই অঙ্গীকার যুক্ত করেছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাদের নামে আঞ্চলিক অবকাঠামোর নামকরণ করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, শহিদরা যেসব এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, সেই সব এলাকায় সড়ক, সেতু, হাসপাতালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো তাদের নামে করা হবে, যাতে তাদের আত্মত্যাগ বিস্মৃত না হয়।