নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেটদের সংসদ নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক জটিল প্রক্রিয়া যুক্ত না করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, বিএনসিসির ক্যাডেটরা তরুণ ও ছাত্র। তাদের নির্বাচনের কার্যক্রমে যুক্ত করলে তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক জটিল প্রক্রিয়া যেন তাদের যুক্ত না করা হয়। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলতে আইনে যাদের নাম আছে তারা যাতে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত থাকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপ্রাসঙ্গিক সংস্থার অন্তর্ভুক্তি নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আইনে যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে শুধু তাদেরই রাখা হোক। আজ বিএনসিসি (বিএনসিসি) আনা হচ্ছে, কাল হয়তো স্কাউটকে আনা হবে। এটা নির্বাচনের পরিবেশের জন্য শুভ নয়।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। আইনের সরাসরি বাধা না থাকলেও নির্বাচনের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার দাবি জানান তিনি। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি না হয়। এ বিষয়ে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, নির্বাচনের মতো একটা জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তার প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। সেজন্য তাদেরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করা বেটার হবে।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যে, অল্প বয়সী ছাত্রদের সংসদ নির্বাচনের মতো একটি জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনে যাদের কথা উল্লেখ আছে, তাদেরকেই নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। আমরা জানতে পেরেছি যে, ছাত্রদের পর হয়তো স্কাউটদেরও যুক্ত করার কথা বলা হতে পারে। কমিশন আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি কমিটি গঠনের একটি গুঞ্জন আমরা শুনেছি। শান্তি কমিটি শব্দটা আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি করার সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। এছাড়া আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। আইনে বাধা না থাকলেও, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ত্যাগ করা উচিত। কমিশন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেখেছি প্রায় ৫৫ হাজারেরও বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠানও আছে। আমরা কমিশনকে বলেছি তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন কি না। আমাদের মতে, যাদের সক্ষমতা আছে তাদেরই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যেন নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
তিনি বলেন, গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। যদিও কমিশন বলছে এই সংখ্যা মাত্র ২-৩ হাজার, কিন্তু আমরা এই তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদের ধারণা, তাদের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি অনেক হোল্ডিং নম্বরে যেখানে ৪-৫ জন থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য জানতে চেয়েছি এবং কমিশন তদন্ত করার কথা বলেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমিশনকে সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















