নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর, কদমতলী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধনিয়া কলেজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা-৪ এর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি ইশতেহার পাঠ করেন।
তানভীর আহমেদ রবিন তার নির্বাচনি ইশতেহারে ২০টি বিষয় উল্লেখ করেছেন।
তিনি মনে করেন, এই ইশতেহারগুলো ঢাকা-৪ এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান হিসেবে কার্যকর হবে।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও অপরাধ দমন
কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।
কিশোর গ্যাং নির্মূল: সামাজিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্বাস্থ্যসেবা: শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় একটি সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন।
কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন: যুব ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয়ে শিক্ষা সেল গঠন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শ্রমিক অধিকার: নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন।
সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সবুজায়ন: প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ছাদ বাগান জনপ্রিয় করা।
যোগাযোগ ও যানজট নিরসন: সড়ক উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা।
রাজউক ও খাস জমি সমস্যা: পোস্তগোলা ও আশপাশের এলাকায় রাজউকের হুকুমদখল ও খাসমহল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ।
ইশতেহার পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মানুষের কাছে গিয়ে সরাসরি তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সেগুলোকেই ইশতেহারের ভিত্তি করেছেন। তার ভাষায়, ঢাকা-৪ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। পানি নিষ্কাশন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে, যা আমি নিজ চোখে দেখেছি।
কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-৪ এ কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। জিরো টলারেন্স নীতিতে এসব নির্মূল করা হবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, সিসিটিভি ফুটেজসহ সব প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি পিছপা হবেন না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, ইশতেহারের প্রতিটি দফা সময়োপযোগী এবং ঢাকা-৪ আসনের বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























