Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া শিশু মিসবাহ মারা গেছে

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু মিসবাহ মারা গেছে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশু মিসবাহ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

নিখোঁজ শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির ঘরের ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে গত ৪-৫ বছর আগে সরকারিভাবে গভীর নলকূপের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়। তবে নলকূপ বসানো হয়নি। আজ বিকালে খেলতে গিয়ে ওই গর্তে পড়ে যায় শিশুটি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শিশুটি পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকাজের একপর্যায়ে ২০ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত হয় ফায়ার সার্ভিস। পরে পাইপের মাধ্যমে সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। আশপাশের লোকজনও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, নলকূপের গর্তের অন্তত ২০ ফুট নিচে শিশুটি পড়ে যায়। শিশুটিকে চার ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিকালে শিশুটি খেলা করার সময় বাড়ির পাশে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য করা গর্তে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন শিশুটির কান্নাকাটির শব্দ শোনেন। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন।’

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

একটি দল নিজেরাই ভোট কিনে দুর্নীতির গল্প শোনায় : মাহাদী আমিন

রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়া শিশু মিসবাহ মারা গেছে

প্রকাশের সময় : ১০:১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু মিসবাহ মারা গেছে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশু মিসবাহ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

নিখোঁজ শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির ঘরের ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে গত ৪-৫ বছর আগে সরকারিভাবে গভীর নলকূপের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়। তবে নলকূপ বসানো হয়নি। আজ বিকালে খেলতে গিয়ে ওই গর্তে পড়ে যায় শিশুটি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শিশুটি পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধারকাজের একপর্যায়ে ২০ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত হয় ফায়ার সার্ভিস। পরে পাইপের মাধ্যমে সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। আশপাশের লোকজনও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, নলকূপের গর্তের অন্তত ২০ ফুট নিচে শিশুটি পড়ে যায়। শিশুটিকে চার ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিকালে শিশুটি খেলা করার সময় বাড়ির পাশে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য করা গর্তে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন শিশুটির কান্নাকাটির শব্দ শোনেন। স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন।’

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।