Dhaka মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে র‍্যাব কর্মকর্তাকে হত্যা, ৩ আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টানা তিন দিনের অভিযানে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রকাশিত।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গত ২৪ জানুয়ারি এজাহারে উল্লেখিত আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮) কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ জানুয়ারি একই মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি মো. মিজানকে (৫৩) নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এবং পরদিন (২৬ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্তে প্রকাশিত আসামি মো. মামুনকে (৩৮) নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) র‍্যাবের একজন উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে মামলা ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে এরইমধ্যে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান যে, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র‍্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য যায়।

বিকেল পৌনে চারটার দিকে অভিযানে যাওয়া র‍্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে র‍্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে ফেলা হয়। এ সময় র‍্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। আটকে রাখা সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ওপর ব্যাপক মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তা নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে এখানে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনোখুনি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর থেকে এই সহিংসতার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী গ্রুপের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াই।

ইয়াসিন বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়। অন্যদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত)। সর্বশেষ তাদের গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নেয় ওই এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

চট্টগ্রামে র‍্যাব কর্মকর্তাকে হত্যা, ৩ আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১২:৪২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টানা তিন দিনের অভিযানে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রকাশিত।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গত ২৪ জানুয়ারি এজাহারে উল্লেখিত আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮) কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ জানুয়ারি একই মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি মো. মিজানকে (৫৩) নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এবং পরদিন (২৬ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্তে প্রকাশিত আসামি মো. মামুনকে (৩৮) নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) র‍্যাবের একজন উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে মামলা ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে এরইমধ্যে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান যে, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র‍্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য যায়।

বিকেল পৌনে চারটার দিকে অভিযানে যাওয়া র‍্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে র‍্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে ফেলা হয়। এ সময় র‍্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। আটকে রাখা সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ওপর ব্যাপক মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তা নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে এখানে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনোখুনি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর থেকে এই সহিংসতার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী গ্রুপের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াই।

ইয়াসিন বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়। অন্যদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত)। সর্বশেষ তাদের গ্রুপিং ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নেয় ওই এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে।