ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় সরু, জরাজীর্ণ ও রেলিংবিহীন একটি ব্রিজের মাঝখানে বেশকিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে ব্রিজটি যেন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন। দুর্ঘটনা এড়াতে ভাঙা অংশে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ সরু, জরাজীর্ণ ও রেলিংবিহীন ব্রিজটি। কয়েক মাস আগে ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে আংশিক মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি।
সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া সড়কের বিটুমিন ঢালাই কাজ চলাকালে রাস্তা সমান করার রোলার ব্রিজের ওপর উঠলে আবারও ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি বিশ্বাস বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝখানে অত্যন্ত সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পাশের জমি ভরাট হয়ে গেলেও ব্রিজটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়েছে। সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার ওপর দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মাতুব্বর বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই আমাদের চলাচল। বাচ্চারা স্কুলে যায়, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। ব্রিজের মাঝে ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?
আরেক বাসিন্দা বাদল হোসেন বলেন, এখানে ব্রিজ না রেখে একটি কালভার্ট করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বারবার মেরামত করে লাভ নেই।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মালিক নাজমুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির বিষয়ে আমি অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ না থাকায় বড় কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষে বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি 
























