নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সাবেক নেতা ও ব্রাহ্মবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দেন তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ঘটনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি লিখিত জবাব দিয়েছি। আজ ইসিতেও একটি জবাব জমা দিয়েছি। আমার প্রচারণার মাঠে থাকার কথা ছিল, কিন্তু বাধ্য হয়েই আজ ঢাকায় এসেছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রশাসন ও পুলিশ যে পরিমাণ নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেই পরিমাণ নিরপেক্ষ নেই।
তিনি বলেন, আমার কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। তাদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মাথা ফাটানো হয়েছে, বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তাই আমি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে এসেছি, যেহেতু আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে আমাকে লড়াই করতে হচ্ছে, প্রশাসন যদি পুরোপুরি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে আরেকটা ৫ আগস্টের মতো বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে এর পরিণতি ভালো হবে না, কারও জন্যই ভালো হবে না। এসব বিষয় আমি কমিশনকে জানিয়েছি।
২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রুমিন ফারহানাকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
ভোটে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রশাসন যদি এখানে একদম “স্ট্রেইট” নিরপেক্ষ না থাকে তাহলে আরেকটা ৫ আগস্টের মতো কিংবা ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতন আরেকটা নির্বাচন যদি হয়, বাংলাদেশে তার পরিণতি ভালো হবে না। কারো জন্যই ভালো হবে না। তাই, এই বিষয়গুলো আমি আসলে কমিশনকে অবহিত করেছি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর পর্যবেক্ষক টিমকেও নালিশ দেওয়ার কথা বলেছেন রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘আজকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবজার্ভারদের সাথে আমার বৈঠক আছে। আমি তাদেরকেও বিষয়গুলো অবগত করবো এবং আমি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, অন্তত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কারচুপির খেলা কোনো রাজনৈতিক দল যেন করবার স্পর্ধা না দেখায়। আমি সকল দলকেই আহ্বান জানাবো।’
নির্বাচনের মাঠে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয়, সেই জন্য মানুষ ১৫ বছর লড়াই করেছে বলে তুলে ধরেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা যে যেই দলেই ছিলাম, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে লড়াই করেছি। সুতরাং, আরেকটা কারচুপির নির্বাচন আরেকটা ‘ম্যানিপুলেটেড ইলেকশন’ বাংলাদেশে আমরা হতে দেব না ইনশাল্লাহ।’
এর আগে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার এক চিঠিতে এই অভিযোগ আনেন।
সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যার জেরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























