Dhaka বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০০ জন দেখেছেন
স্পোর্টস ডেস্ক : 

টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে যে কোনো একটা পথই খোলা ছিল হয় ভারতে গিয়ে খেলতে হবে, নয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই খেলা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থানেই অটল থাকল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক বৈঠকে বসেছিলেন যুব ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্তাব্যক্তিরা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি বলেও উল্লেখ করেছেন আসিফ নজরুল।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, স্বভাবত, আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আইসিসি আসল ঘটনা বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড যে সিকিউরিটি প্রসিডিউর সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করা…যে ঘটনাটা ঘটেছে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে, আমরা এটার জন্য সরি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, তোমাদের দর্শক, সাংবাদিক, খেলোয়াড়দের জন্য কোনো রকম যোগাযোগের চেষ্টা করে নাই। ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নাই।’

ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি ক্রিকেটারদের সাথে আমার যা কথা হবে সেটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাদের কারো কথা আমি সাংবাদিকদের বলব না। তারা নিজেরা বলতে চাইলে বলবে। আমার কোনো কথা তাদেরকে কী বলেছি সেটাও বলব না। শুধু এইটুক বলব কারণ এটা একটা প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন। আমি যদি বলি যে ক্রিকেটাররা কি কি বলেছে সব আপনাদের বলব, তাহলে তো ওরা মন খুলে কথা বলতে পারবে না। আমাদের এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্যটা ছিল আমরা সরকার কেন এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে সেটা তাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলা, কনটেক্সটটা বলা। আমার কাছে মনে হয়েছে যে তারা এটা বুঝতে পেরেছে। এটাই পারপাস ছিল আর কিছুই না। আর তারা কী বলেছে সেটা বলার অধিকার আমার নাই।’

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন বিসিবি কর্তাও। এই আলোচনায় মূলত বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের।

শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে আইসিসির সুবিচার আশা ক্রীড়া উপদেষ্টার

সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই লিটন দাসদের বলা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেটাররা কী বলেছেন সেটা গণমাধ্যমে বলতে চাননি আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘কী কী আলোচনা হয়েছে তা বাইরে বলতে চাই না। ক্রিকেটাররা কী কী বলেছে তা যদি এখানে বলে দেই তাহলে তো তারা মন খুলে কথা বলতে পারবে না।’

‘আমাদের এই মিটিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল, সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলা। পুরো ঘটনাটা বলা। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, তারা এটা বুঝতে পেরেছে। এটাই উদ্দেশ্য ছিল, আর তারা কী বলেছে সেটা এখানে বলার অধিকার আমার নেই।’-যোগ করেন তিনি।

আইসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকটি বাংলাদেশ তুলে ধরেছে। তারপরও আইসিসি ভারতেই খেলাতে চেয়েছে বাংলাদেশকে, এটি বাংলাদেশের প্রতি সুবিচার নয় বলে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আইসিসির টুর্নামেন্ট এটা তো ভারতেই হবে। আইসিসি আমাদের যতই বলুক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই আইসিসি নামে আলাদা তো কোন দেশ নাই। যেই দেশে আমার একজন খেলোয়াড় নিরাপত্তা পায় নাই, যেই দেশে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সরকারের একটা বর্ধিত অংশ। তারাই আমার খেলোয়াড়কে উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহ হয়েছে।’

এদিকে, কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিল আইসিসি। এর জবাবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজ নিজে সরে যায়নি, মুস্তাফিজের ইনজুরি হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসি ক্যান্সেল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এরপর আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা বিকল্প ভেন্যুতে খেলতে চাই।

বুলবুল বলেছেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো আজকে আরও কী কী পথ আছে, সেটা আইসিসিকে বলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব সন্দিহান। আমাদের প্রত্যেকটা লোক বিশ্বাস করতাম যে আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যখন আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট পাগল দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসি বড় একটা মিস করবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসের জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনবহুল ক্রিকেট পাগল দেশ না যায়, তাহলে সেটা মনে হচ্ছে আয়োজকদের বড় ব্যর্থতা।’

আইসিসি সময় বেঁধে দিলেও বুলবুল জানান, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাবো, এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে।’

তার পরই ভারতে না যাওয়া নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান বুলবুল, ‘আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। আমাদের দল প্রস্তুত আছে।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মিটিংয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক : 

টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে যে কোনো একটা পথই খোলা ছিল হয় ভারতে গিয়ে খেলতে হবে, নয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই খেলা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থানেই অটল থাকল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক বৈঠকে বসেছিলেন যুব ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্তাব্যক্তিরা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি বলেও উল্লেখ করেছেন আসিফ নজরুল।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, স্বভাবত, আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আইসিসি আসল ঘটনা বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড যে সিকিউরিটি প্রসিডিউর সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করা…যে ঘটনাটা ঘটেছে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে, আমরা এটার জন্য সরি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, তোমাদের দর্শক, সাংবাদিক, খেলোয়াড়দের জন্য কোনো রকম যোগাযোগের চেষ্টা করে নাই। ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নাই।’

ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি ক্রিকেটারদের সাথে আমার যা কথা হবে সেটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাদের কারো কথা আমি সাংবাদিকদের বলব না। তারা নিজেরা বলতে চাইলে বলবে। আমার কোনো কথা তাদেরকে কী বলেছি সেটাও বলব না। শুধু এইটুক বলব কারণ এটা একটা প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন। আমি যদি বলি যে ক্রিকেটাররা কি কি বলেছে সব আপনাদের বলব, তাহলে তো ওরা মন খুলে কথা বলতে পারবে না। আমাদের এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্যটা ছিল আমরা সরকার কেন এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে সেটা তাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলা, কনটেক্সটটা বলা। আমার কাছে মনে হয়েছে যে তারা এটা বুঝতে পেরেছে। এটাই পারপাস ছিল আর কিছুই না। আর তারা কী বলেছে সেটা বলার অধিকার আমার নাই।’

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন বিসিবি কর্তাও। এই আলোচনায় মূলত বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের।

শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে আইসিসির সুবিচার আশা ক্রীড়া উপদেষ্টার

সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই লিটন দাসদের বলা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেটাররা কী বলেছেন সেটা গণমাধ্যমে বলতে চাননি আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘কী কী আলোচনা হয়েছে তা বাইরে বলতে চাই না। ক্রিকেটাররা কী কী বলেছে তা যদি এখানে বলে দেই তাহলে তো তারা মন খুলে কথা বলতে পারবে না।’

‘আমাদের এই মিটিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল, সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলা। পুরো ঘটনাটা বলা। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, তারা এটা বুঝতে পেরেছে। এটাই উদ্দেশ্য ছিল, আর তারা কী বলেছে সেটা এখানে বলার অধিকার আমার নেই।’-যোগ করেন তিনি।

আইসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকটি বাংলাদেশ তুলে ধরেছে। তারপরও আইসিসি ভারতেই খেলাতে চেয়েছে বাংলাদেশকে, এটি বাংলাদেশের প্রতি সুবিচার নয় বলে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আইসিসির টুর্নামেন্ট এটা তো ভারতেই হবে। আইসিসি আমাদের যতই বলুক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই আইসিসি নামে আলাদা তো কোন দেশ নাই। যেই দেশে আমার একজন খেলোয়াড় নিরাপত্তা পায় নাই, যেই দেশে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ভারতের সরকারের একটা বর্ধিত অংশ। তারাই আমার খেলোয়াড়কে উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহ হয়েছে।’

এদিকে, কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছিল আইসিসি। এর জবাবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজ নিজে সরে যায়নি, মুস্তাফিজের ইনজুরি হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসি ক্যান্সেল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এরপর আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা বিকল্প ভেন্যুতে খেলতে চাই।

বুলবুল বলেছেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো আজকে আরও কী কী পথ আছে, সেটা আইসিসিকে বলা। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব গর্ববোধ করি। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব সন্দিহান। আমাদের প্রত্যেকটা লোক বিশ্বাস করতাম যে আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যখন আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট পাগল দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসি বড় একটা মিস করবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসের জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনবহুল ক্রিকেট পাগল দেশ না যায়, তাহলে সেটা মনে হচ্ছে আয়োজকদের বড় ব্যর্থতা।’

আইসিসি সময় বেঁধে দিলেও বুলবুল জানান, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাবো, এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে।’

তার পরই ভারতে না যাওয়া নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান বুলবুল, ‘আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। আমাদের দল প্রস্তুত আছে।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মিটিংয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব উপস্থিত ছিলেন।