স্পোর্টস ডেস্ক :
দ্বাদশ বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে আগে ব্যাটিং করে ১৩৩ রান তুলেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এই রান নিয়েও যে ম্যাচ হাড্ডাহাড্ডি হবে সেটা পিচ দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল, হলোও তাই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জিতেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনালে উঠে গেল চট্টগ্রাম। হারলেও ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকল রাজশাহী। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলবে রাজশাহী। ওই ম্যাচে যারা জিতবে তারা হবে ফাইনালের দ্বিতীয় দল।
বিপিএলের নকআউট পর্বের দুটি ম্যাচই হলো লো-স্কোরিং। রংপুর রাইডার্স আর সিলেট টাইটান্সের মধ্যকার আগের ম্যাচটিতে একশ বিশেরও কম রান উঠেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে রান উঠল একশ ত্রিশের ঘরে।
১৩৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ধীরেসুস্থে খেলতে থাকেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার মির্জা বাইগ ও নাঈম শেখ। ৭০ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন মির্জা-নাঈম। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে নাঈমকে (৩০) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। ডিপ মিড উইকেট থেকে দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ব্যাটিংয়ে নামেন হাসান নাওয়াজ। দ্বিতীয় উইকেটে মির্জা ও নাওয়াজ গড়েন ২৪ বলে ৩৪ রানের জুটি। ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে হাসান নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ। ১৪ বলে ২ ছক্কায় ২০ রান করেন নাওয়াজ। চার নম্বরে নামা আসিফ আলী ৮ বল খেলে ১১ রান করে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর (আসিফ আলী) উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন।
নাওয়াজ-আসিফের দ্রুত বিদায়ে ১৭.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১১২ রানে পরিণত হয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। রাজশাহীর জয়ের জন্য যখন ১১ রান প্রয়োজন, তখন আউট হয়েছেন মির্জা। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে মির্জাকে ফিরিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। লং অনে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
হাতে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ ওভারে ৯ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ডেথ ওভার বিশেষজ্ঞ রিপন মন্ডল এলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ভক্ত-সমর্থকেরা হয়তো আশার আলো খুঁজে পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ছক্কা মারলে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় রাজশাহী। ঠিক তার পরের বলে ২ রান নিয়ে ৩ বল হাতে রেখে চট্টগ্রামকে ৬ উইকেটের জয় এনে দেন শেখ মেহেদী।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মিরপুরের স্লো-উইকেটে শুরুতে দেখে শুনেই এগাচ্ছিলো রাজশাহীর দুই ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।
তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ক্যাচ আউট হন ফারহান। ১৯ বলে ২১ রান করেন তিনি। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পরের বলেই ডাক আউট হন মুশফিকুর রহিম। ১০ বলে ৩ রান করে আকবর আউট হলে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন তামিম। কিন্তু এই ওপেনিং ব্যাটারও ফিফটি তুলতে পারেনি। ৩৭ বলে ৪১ রান করে নাওয়াজের বলে ক্যাচ আউট হন তিনি।
এরপর উইকেট মিছিলে যোগ দেন জেমি নিশাম (৬) ও রায়ান বার্ল (৩)। তবে পিচে এসেই ব্যাট চালাতে থাকেন গাফার সাকলাইন। তবে ১৯তম ওভারে প্রথম বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। ১৫ বলে ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন তিনি।এরপর ৮ বলে ১০ রান করে ফেরেন রিপন মন্ডল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ১৩৩ রান তুলতে পারে রাজশাহী।
চট্টগ্রামের মেহেদী, আমির জামাল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন তানভীর ইসলাম, শরীফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, মির্জা বেগ ও হাসান নাওয়াজ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মেহেদী হয়েছেন ম্যাচসেরা। বোলিংয়ে ২ উইকেটের পাশাপাশি ৯ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























