নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচনের কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সার্বিক কার্য প্রস্তুতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসিরুদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুইডিশ রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ইসি সচিব বলেন, আজ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন নির্বাচন উপলক্ষ্যে নেওয়া আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্যে এবং আমাদের নির্বাচনের পার্টি রেজিস্ট্রেশন, আপিল, পোস্টাল ভোটের টেকনিক্যাল ব্যাপার সমূহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপতথ্য রোধ-এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কীভাবে কাজ করছি তা জানতে চেয়েছিলেন। আমাদের কাছ থেকে এই সমস্ত বিষয়ে বিশদভাবে জানার পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী বিষয়গুলো তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২৫ জানুয়ারি আরও বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষত অপতথ্যগুলোকে আমরা কীভাবে মোকাবিলা করছি আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের পর্যালোচনাটা কী তিনি তা জেনেছেন। বলেছেন যে আমাদের যদি কোনো সহযোগিতা লাগে তাহলে আমরা যেন ওনাদের বলি, তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন।
ইসি সচিব বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের যে ডিপ্লয়মেন্ট স্ট্র্যাটেজি ও প্ল্যান আছে তা তাকে জানিয়েছি। তিনি তা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।
আখতার আহমেদ বলেন, সুইডেনের প্রতিনিধিদল বিশেষভাবে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথমত- নির্বাচন ঘিরে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন আমরা কীভাবে মোকাবিলা করছি। দ্বিতীয়ত- নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ আছে কি না এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির পর্যালোচনা কীভাবে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের তেমন কোনো বড় ধরনের উদ্বেগ নেই। তবে তারা জানতে চেয়েছেন আমাদের প্রস্তুতি কী? আমরা আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান তাদের জানিয়েছি।
তিনি বলেন, সুইডেনের প্রতিনিধিদল ব্রিফিংয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেছেন- আমাদের যদি কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তাহলে যেন তাদের জানানো হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু নয়, বরং একটি সাধারণ ধারণা নেওয়ার জন্যই তারা এসেছিলেন।
অপতথ্য মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের গঠিত সেলের কার্যক্রম সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, এই সেল এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমি চাই সাংবাদিকরা সরাসরি সেলের কার্যক্রম দেখে আসুন। বাস্তবে দেখে আপনারা যে প্রশ্ন বা পরামর্শ দেবেন, তা আরও বস্তুনিষ্ঠ হবে।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা যদি মনে করেন কোথাও ঘাটতি আছে বা আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তাহলে তা সরাসরি জানাতে পারবেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সুইডেন দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি হিউম্যান রাইটস ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জেন্ডার ইকুয়ালিটি এবং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















