Dhaka মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ বলে ওকসের ছক্কায় রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে সিলেট

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮২ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরুতে চাপে পড়ে সিলেট টাইটান্স। বিলিংস-মিরাজ জুটিতে ম্যাচে ফেরে তারা। কিন্তু এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর জয়ের দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। এমতাবস্থায় ফাহিম আশরাফের করা বলে ছক্কা হাঁকিয়েই দলকে জেতান ইংলিশ তারকা ক্রিস ওকস। তাতেই রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হয় সিলেটের।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচ হলো উত্তেজনায় ঠাসা। রংপুরের করা মাত্র ১১১ রান একদম শেষ বলে গিয়ে তুলে নিল সিলেট। ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল তারা। অন্যদিকে ফেভারিট হয়েও ফাইনালের আগে বিদায় নিল রংপুর।

১১২ রানের লক্ষ্যে নেমে ২ রানেই ভেঙে যায় সিলেট টাইটানসের উদ্বোধনী জুটি। ইনিংসের চতুর্থ বলে সিলেট ওপেনার তৌফিক খান তুষারকে (২) ফেরান মোস্তাফিজ। তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন মিলে সামাল দেন প্রাথমিক ধাক্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ২৯ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন আরিফুল ও ইমন। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আরিফুলকে (১৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা।

আরিফুল ফেরার পর সাময়িক ধস নামে সিলেট টাইটানসের ইনিংসে। ৫.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮ রান থেকে মুহূর্তেই ৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৪ রানে পরিণত হয় সিলেট। যেখানে ইমন (১৮) ও আফিফকে (৩) দ্রুত ফেরান আলিস আল ইসলাম। রংপুর রাইডার্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিলেটের ব্যাটিং করাটাই দুরূহ হয়ে পড়ে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ঠান্ডা মাথায় এগোতে থাকেন। পঞ্চম উইকেটে ৫৪ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন মিরাজ-বিলিংস।

১৭তম ওভারের শেষ বলে মিরাজকে (১৮) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন খুশদিল শাহ। সিলেট টাইটানস-রংপুর রাইডার্স এলিমিনেটরের সব রোমাঞ্চ যেন জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্যই। হাতে ৫ উইকেট নিয়ে শেষ দুই ওভারে ১৫ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে সিলেট। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে তুলে মারতে যান স্যাম মিলিংস। কাউ কর্নার থেকে ডিপ মিড উইকেটে দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন তাওহীদ হৃদয়। দুর্দান্ত ক্যাচের পর হৃদয় বল শূন্যে ছুড়ে উদযাপন করেন। মোস্তাফিজের সেই ওভার থেকে সিলেট নিয়েছে ৬ রান।

ইনিংসের শেষ ওভারটা যখন ফাহিম আশরাফ করতে আসেন, ঠান্ডা মাথায় প্রথম পাঁচটা বল দারুণ করেছেন। সেই ওভারের প্রথম বলে মঈন আলী ২ রান নিলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি। চতুর্থ বলে ফাহিমকে তুলে মারতে যান মঈন। টপ এজ হওয়া বল শর্ট থার্ড ম্যানে তালুবন্দী করার পর বাঁধভাঙা উদযাপন করেন আলিস। পঞ্চম বলে সৈয়দ খালেদ আহমেদ এক রান নিয়ে শেষ বলে ছয় রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে সিলেট। ওকস ছক্কা মেরে সিলেটকে এনে দেন রোমাঞ্চকর জয়।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা রংপুর রাইডার্স ৬.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯ রানে পরিণত হয়। পঞ্চম উইকেটে ২৯ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রংপুর রাইডার্সের ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ জুটি।

সিলেট টাইটানসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১১ রানে থেমে যায় রংপুর রাইডার্স। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ২৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরেছেন তিনি। সিলেটের সৈয়দ খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে ১৪ রানে খরচ করে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন খালেদ। সিলেটের নাসুম আহমেদ ও ক্রিস ওকস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ওকস ৪ ওভারে খরচ করেন ১৫ রান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট সুইডেন : ইসি সচিব

শেষ বলে ওকসের ছক্কায় রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে সিলেট

প্রকাশের সময় : ০৫:২৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরুতে চাপে পড়ে সিলেট টাইটান্স। বিলিংস-মিরাজ জুটিতে ম্যাচে ফেরে তারা। কিন্তু এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর জয়ের দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। এমতাবস্থায় ফাহিম আশরাফের করা বলে ছক্কা হাঁকিয়েই দলকে জেতান ইংলিশ তারকা ক্রিস ওকস। তাতেই রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হয় সিলেটের।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচ হলো উত্তেজনায় ঠাসা। রংপুরের করা মাত্র ১১১ রান একদম শেষ বলে গিয়ে তুলে নিল সিলেট। ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল তারা। অন্যদিকে ফেভারিট হয়েও ফাইনালের আগে বিদায় নিল রংপুর।

১১২ রানের লক্ষ্যে নেমে ২ রানেই ভেঙে যায় সিলেট টাইটানসের উদ্বোধনী জুটি। ইনিংসের চতুর্থ বলে সিলেট ওপেনার তৌফিক খান তুষারকে (২) ফেরান মোস্তাফিজ। তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন মিলে সামাল দেন প্রাথমিক ধাক্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ২৯ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন আরিফুল ও ইমন। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আরিফুলকে (১৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা।

আরিফুল ফেরার পর সাময়িক ধস নামে সিলেট টাইটানসের ইনিংসে। ৫.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮ রান থেকে মুহূর্তেই ৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৪ রানে পরিণত হয় সিলেট। যেখানে ইমন (১৮) ও আফিফকে (৩) দ্রুত ফেরান আলিস আল ইসলাম। রংপুর রাইডার্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিলেটের ব্যাটিং করাটাই দুরূহ হয়ে পড়ে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ঠান্ডা মাথায় এগোতে থাকেন। পঞ্চম উইকেটে ৫৪ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন মিরাজ-বিলিংস।

১৭তম ওভারের শেষ বলে মিরাজকে (১৮) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন খুশদিল শাহ। সিলেট টাইটানস-রংপুর রাইডার্স এলিমিনেটরের সব রোমাঞ্চ যেন জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্যই। হাতে ৫ উইকেট নিয়ে শেষ দুই ওভারে ১৫ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে সিলেট। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে তুলে মারতে যান স্যাম মিলিংস। কাউ কর্নার থেকে ডিপ মিড উইকেটে দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন তাওহীদ হৃদয়। দুর্দান্ত ক্যাচের পর হৃদয় বল শূন্যে ছুড়ে উদযাপন করেন। মোস্তাফিজের সেই ওভার থেকে সিলেট নিয়েছে ৬ রান।

ইনিংসের শেষ ওভারটা যখন ফাহিম আশরাফ করতে আসেন, ঠান্ডা মাথায় প্রথম পাঁচটা বল দারুণ করেছেন। সেই ওভারের প্রথম বলে মঈন আলী ২ রান নিলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি। চতুর্থ বলে ফাহিমকে তুলে মারতে যান মঈন। টপ এজ হওয়া বল শর্ট থার্ড ম্যানে তালুবন্দী করার পর বাঁধভাঙা উদযাপন করেন আলিস। পঞ্চম বলে সৈয়দ খালেদ আহমেদ এক রান নিয়ে শেষ বলে ছয় রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে সিলেট। ওকস ছক্কা মেরে সিলেটকে এনে দেন রোমাঞ্চকর জয়।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা রংপুর রাইডার্স ৬.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯ রানে পরিণত হয়। পঞ্চম উইকেটে ২৯ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রংপুর রাইডার্সের ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ জুটি।

সিলেট টাইটানসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১১ রানে থেমে যায় রংপুর রাইডার্স। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ২৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরেছেন তিনি। সিলেটের সৈয়দ খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে ১৪ রানে খরচ করে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন খালেদ। সিলেটের নাসুম আহমেদ ও ক্রিস ওকস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ওকস ৪ ওভারে খরচ করেন ১৫ রান।