নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা ২৪ এর অভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন না তারাই নানান আকাঙ্ক্ষার কথা বলে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। কিন্তু যারা যুদ্ধে যায় নাই তারা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছে যে, যুদ্ধে আমরা কী চেয়েছিলাম। তেমনিভাবে যারা ২৪-এর এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে তারা না- এই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলেন এমন মানুষেরা যারা এই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন না। এ বিষয়গুলো আমাদের মনে রাখতে হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, যারা আজকে শহীদ পরিবারের সম্মানিত সদস্য হিসেবে এসেছেন আমি তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমি স্বাগত জানাই যারা সেই লড়াইয়ে আহত হয়েছেন। তারা আহত হয়েছেন, তারা শহীদ হয়ে যেতে পারতেন। আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারা আমাদের শ্রদ্ধেয় মানুষ, আমাদের প্রিয় মানুষ তারা। তাদেরকেও আমি স্বাগত জানাই। স্বাগত জানাই তাদের পরিবারের সম্মানিত সদস্যদের, যারা তাদের সন্তানদের এই লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তিনি বলেন, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় লড়াইয়ে ফ্যাসিবাদ টিকতে পারেনি। তাদের হাতে অস্ত্র, অবৈধ অর্থ ছিল, তবুও তারা পালিয়ে গেছে। নানাজন নানাভাবে এই লড়াইকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমি পুনরায় আপনাদের স্বাগত জানাই, শ্রদ্ধা জানাই এবং আগামী দিনের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মর্যাদা সম্পন্ন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় সহযোগিতা চাই।’
সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবার ও আহতদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জুলাইয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা স্রেফ গণহত্যা। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, একাত্তরের মতো তারাও মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি বলেন, আপনারা শুনেছেন আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু আকাঙ্ক্ষা ছিল তা যদি পূরণ হতো, তাহলে গত ১৭-১৮ বছর গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, তা হতো না। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের এত সন্তান, এত ভাই-বোন শহীদ হতো না, আহত হতো না। ২৪ এর যে গণঅভ্যুত্থান, তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেরই একটা অংশ।আপনাদের আক্ষেপের কথা শুনে, কষ্টের কথা শুনে, আপনাদের অনেকের চোখে পানি দেখে আমাদের নেতা তারেক রহমান বলছিলেন, কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে?
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, একটা কথা তো ঠিক, বারবার আমরা লড়াই করেছি, লড়াই করে কাউকে না কাউকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি যেন সে লড়াইয়ের ফসল ভোগ করতে পারি, কিন্তু সেটা হয় নাই। উনি (তারেক রহমান) বলছিলেন, কেন আমরা যারা এই লড়াইয়ে শহীদ হয়েছে, যাদের আত্মীয়স্বজনরা প্রধান দাবি নিয়ে এসেছেন হত্যার বিচার চাই, এ বিচারের দাবি তো অন্যায্য না। কিন্তু কেন এখনো হচ্ছে না? উনি (তারেক রহমান) ভাবছেন, কেন আমরা এইসব শহীদ পরিবারের যারা যোগ্য মানুষ আছে, তাদেরকেই কেন আমরা দায়িত্ব দিই না যে আপনারা তাদের বিচারের জন্য যা কিছু করার আপনারা করবেন, সরকার আপনাদেরকে সহযোগিতা করবে। যারা আহত আছে, তাদের সুচিকিৎসার জন্য তাদের মধ্যে থেকে আমরা দায়িত্ব দেবো না যে তারা ওই আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবে এবং সরকার পুরো দায়িত্ব নেবে। উনি ভাবছেন এই রকম।
তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য যারা জীবন দেয়, আহত হয়, তাদেরকে যদি শ্রদ্ধা করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবন দেবে না, আহত হবে না। দেশ এবং জনগণের স্বার্থেই এই কাজ আমাদের করতে হবে। মানুষ বিশ্বাস করে দেশের জন্য যদি আমি শহীদ হই, দেশ আমাকে স্মরণ করবে, আমার হত্যাকারীদের বিচার করবে। আমার পরিবারের যারা অসহায় হয়ে পড়েছে, তাদের দায়িত্ব নেবে। আমার সন্তানের লেখাপড়া দায়িত্ব নেবে। আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে। এ যদি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ দেশের জন্য জীবন দেবে না।
তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে ফিরতে না পারার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আইন করে আদালতকে দিয়ে তার বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তারপরও বিদেশে বসে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন।
তারেক রহমানের দেশের প্রতি আন্তরিকতার উদাহরণ দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, একবার আমাকে উনি ফোন করে বলেছেন, নেত্রকোণায় কোনো এক জায়গায় এক খুব গরিব মানুষের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নিঃস্ব হয়ে গেছে। আপনারা একটু দেখেন, ব্যবস্থা নেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান। আমি ঢাকায় থাকি, আমার বাড়ি জামালপুরে, ময়মনসিংহ বিভাগের আমি, আমি জানি না, লন্ডন থেকে তারেক রহমান সাহেব জানেন। দেশের মানুষের এবং দেশের জন্য আন্তরিক না হলে, খোঁজ না নিলে কেউ এমন খবর রাখে? তার বাবা শহীদ হয়েছে, তার মাও এক রকম শহীদ হয়েছেন বলা যাবে এ কারণেই যে তাকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে শহীদ পরিবারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যারা শহীদ পরিবার আছেন, আপনাদের সঙ্গে তার (তারেক রহমান) আত্মার সম্পর্ক আছে। তাদের সুবিচারের জন্য, তাদের পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য, সহযোগিতা করার জন্য, সন্তানদের লেখাপড়া করার জন্য এবং মর্যাদার সঙ্গে সমাজে পুনর্বাসিত করার জন্য যে কাজ, এ কাজ তার নেতৃত্বে আমরা করবো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























