Dhaka শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয় : আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না বলে মন্তব্য করে বিএনপির প্রয়াত চেয়াপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয়। তার নেতৃত্বে দৃঢ়তা ছিল, আবার মাতৃত্বে ছিল শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এই দুইয়ের মিলনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে আলাল বলেন, বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তায় কখনো ভাটা পড়েনি। জীবদ্দশায় যেমন তিনি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি তার মৃত্যুর পর সেই ভালোবাসা আরও গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় উদাহরণে ভরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স এবং অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেবল মুখে বলেছে, অনেকেই তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি, অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারই প্রথম দেশে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করে। তথ্যপ্রযুক্তির যে অগ্রযাত্রা আজ বাংলাদেশে দৃশ্যমান, তার ভিত্তি তখনই রচিত হয়েছিল। সেই সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ছিল সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রসর চিন্তা।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রী হলেও অনিয়মের অভিযোগে ছাড় দেননি। নিজের দলের সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হননি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। এত নির্যাতন ও অবহেলার পরও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানানো কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।

তারেক রহমানকে ঘিরে নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আলাল বলেন, হাওয়া ভবন থেকে যে ল্যাপটপটি নেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো অবৈধ সম্পদের নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও গণতন্ত্রকে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটান ও নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয় : আলাল

প্রকাশের সময় : ০৬:১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না বলে মন্তব্য করে বিএনপির প্রয়াত চেয়াপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয়। তার নেতৃত্বে দৃঢ়তা ছিল, আবার মাতৃত্বে ছিল শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এই দুইয়ের মিলনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে আলাল বলেন, বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তায় কখনো ভাটা পড়েনি। জীবদ্দশায় যেমন তিনি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি তার মৃত্যুর পর সেই ভালোবাসা আরও গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় উদাহরণে ভরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স এবং অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেবল মুখে বলেছে, অনেকেই তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি, অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারই প্রথম দেশে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করে। তথ্যপ্রযুক্তির যে অগ্রযাত্রা আজ বাংলাদেশে দৃশ্যমান, তার ভিত্তি তখনই রচিত হয়েছিল। সেই সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ছিল সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রসর চিন্তা।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রী হলেও অনিয়মের অভিযোগে ছাড় দেননি। নিজের দলের সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হননি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। এত নির্যাতন ও অবহেলার পরও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানানো কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।

তারেক রহমানকে ঘিরে নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আলাল বলেন, হাওয়া ভবন থেকে যে ল্যাপটপটি নেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো অবৈধ সম্পদের নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও গণতন্ত্রকে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।