স্পোর্টস ডেস্ক :
নানা নাটক আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়াল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ফেরার ম্যাচেই দর্শকদের উপহার দিল দারুণ রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চের শেষ হাসি হাসল চট্টগ্রাম রয়্যালস। অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয় তুলে নিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিল বন্দর নগরীর দলটি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। জবাবে ৩ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।
ম্যাচের শুরুটা নোয়াখালীর জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, হাসান ইসাখিল শুরু করেন যেন সেখান থেকেই। ম্যাচের প্রথম বলটিই বাউন্ডারিতে পাঠান তিনি। পরের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন মুকিদুলকে। অন্য প্রান্তে তানভির ইসলামকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন সৌম্য। প্রথম তিন ওভারে রান আসে ৩৪।
সম্ভাবনাময় এই জুটি থমকে যায় সৌম্যর বাজে শটে। শেখ মেহেদিকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান (৮ বলে ১৪)। একটু পর বিদায় নেন ইসাখিল। আগের ম্যাচে ৯২ রান করা ব্যাটসম্যান ২০ বলে ২৫ রান করে আউট হন শরিফুলকে ক্রিজ ছেড়ে মারার চেষ্টায়। এরপর আর সেভাবে গতি পায়নি তাদের ইনিংস। উদ্বোধনী জুটির ৩৪ রানের পর আর কোনো জুটি ৩০ ছুঁতেও পারেনি।
ছন্দে না থাকা জাকের আলি তিন নম্বরে নামার সুযোগ পেয়েও বন্দি থাকেন অস্বস্তির বলয়ে। দুটি চার একটি ছক্কা মারলেও করতে ২২ বলে করতে পারেন তিনি ২৩ রান। অধিনায়ক হায়দার আলি ফেরেন ১১ বলে ১২ রান করে।
ব্যর্থতার চক্রে থাকা হাবিবুর রহমান সোহান ৮ রানে সহজ ক্যাচ দিয়ে জীবন পান শরিফুলের হাতে। তার পরও বিদায় নেন ১৫ বলে ১১ রান করে। চলতি আসরের ৮ ইনিংসে তার মোট রান ৮৯। কোনো ইনিংসেই ছাড়াতে পারেননি ৩০ রান।
একাদশে ফেরা মুনিম শাহরিয়ার নিজের দায়েই রান আউট হন ১ রানে। তিন ম্যাচে তার রান মোট সাত, দুটিতেই কাটা পড়লেন রান আউটে। সাব্বির হোসেন শেষ দিকে দুই ছক্কায় ১৯ বলে ২২ রান করে দলকে নিয়ে যান ১২৬ রানে।
চট্টগ্রামের হয়ে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া ৩ উইকেট তোলেন শেখ মেহেদী হাসান। ১ উইকেট শিকার করেন আমের জামাল।
সেই রান তাড়ায় চট্টগ্রামের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে দ্রুতই। প্রথম পাঁচ ওভারে উইকেট হারায় তারা চারটি। প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় (০) স্লিপে ধরা পড়েন হাসান মাহমুদের বলে। চোটে ছিটকে পড়া অ্যাডাম রসিংটনের বদলি হিসেবে দলে যোগ দেওয়া মোহাম্মাদ হারিস দ্বিতীয় ওভারে ফেরেন স্বদেশি বোলার ইহসানউল্লাহর বলে।
পাকিস্তানি এই পেসারের বলেই বাজে শটে ফেরেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮ বলে ০)। অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটে ছিল উল্টো সুর। শুরুটা দারুণ আগ্রাসী করেন তিনি। কিন্তু থমকে যান একটু পরই। ৭ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তিনি মিডিয়াম পেসার সাব্বির হোসেনের স্লোয়ারে।
২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বিপকে চট্টগ্রাম, দারুণ জয়ের আশায় উজ্জীবিত নোয়াখালী। কিন্তু শেখ মেহেদি ক্রিজে গিয়ে দারুণ কয়েকটি শট খেলে সরিয়ে দেন চাপ। পাল্টা আক্রমণে বদলে দেন ম্যাচের হাওয়া।
হাসান নাওয়াজকে নিয়ে ৪০ রানের জুটি গড়েন তিনি, যেখানে পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানের অবদান ছিল মাত্র ১২ বলে ১১।
নাওয়াজ বিদায় নেওয়ার পর আর কোনো হোঁচট খেতে হয়নি চট্টগ্রামকে। আসিফ আলি ও শেখ মেহেদির ৪৫ বলে ৫৯ রানের জুটি দলকে পৌঁছে দেয় লক্ষ্যে। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩০বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন আসিফ আলি।
চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদি। চলতি আসরে তার ব্যাটিং গড় ৪৩, স্ট্রাইক রেট ১৫৫.৪২, উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি ৬.৫৮ রান দিয়ে ১০টি।
বল হাতে নোয়াখালীর ইহসানউল্লাহ ৪ ওভারে ২৩ রানে ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, সাব্বির হোসেন ও জহির খান। ফাইফার নিয়ে ম্যাচসেরা হন চট্টগ্রামের শরিফুল।
এই জয়ে ৮ ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী আছে দ্বিতীয় স্থানে। আর ৯ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সিলেট আছে তৃতীয় স্থানে।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























