Dhaka মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা অ্যালিসা হিলির

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৫ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সফল ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলি আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বহুজাতিক সিরিজ শেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন।

আটটি বিশ্বকাপজয়ী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ২০২৩ সালের শেষ দিকে মেগ ল্যানিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হন। ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে তিনি টি–টোয়েন্টি খেলবেন না, যাতে দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন এবং ৬-৯ মার্চ পার্থে দিবা-রাত্রির টেস্ট দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন।

উইলো টক পডকাস্টে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে হিলি বলেন, এটা অনেক দিন ধরেই হয়ে আসছিল। গত কয়েক বছর শারীরিকের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর ছিল। চোটও ছিল, আর ভেতরের শক্তিটা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছিল। বারবার নিজেকে নতুন করে উজাড় করে দেওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল।

হিলি আরও বলেন, আমি সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ও জিততে চেয়েছি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা পুরোপুরি হারাইনি, কিন্তু কিছুটা কমেছে। গত মৌসুমের ডব্লিউবিবিএল (নারী বিগ ব্যাশ) আমার জন্য একটা সতর্কবার্তা ছিল। একদিন সকালে উঠে মনে হওয়া—‘আরেকটা সাধারণ ক্রিকেটময় দিন’। আমাকেই অবাক করেছিল (এমন ভাবনা)। কারণ আমি ভাবতাম, আমি এখনো খেলাটাকে ভালোবাসি।

হিলির অবসরের সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন অধিনায়কের অধীনে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এ বিষয়ে হিলি বলেন, ‘এর মানে আমি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছি না। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নেতৃত্ব নিয়ে কিছু পরিবর্তন আসবে। তবে ঘরের মাঠে এই সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগটা আমার জন্য খুবই বিশেষ। টেস্ট শেষ হওয়ার পর ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্বকাপে না থাকায় আগেই সিদ্ধান্ত জানাতে হয়েছে। শেষটা ভারতের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, ঘরের মাঠে, সতীর্থ ও পরিবারের সামনে করতে পারাটা দারুণ মনে হয়েছে।’

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় হিলির। এরপর ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ওয়ানডেতে ৩হাজার ৫০০-এর বেশি এবং টি–টোয়েন্টিতে ৩ হাজার ৫৪ রান করেছেন। টি–টোয়েন্টিতে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৮* রান পূর্ণ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি নারী-পুরুষ মিলিয়ে টি–টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ডিসমিসালের রেকর্ডও তার দখলে।

ক্যারিয়ারে হিলি ছয়টি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৩) এবং দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০১৩ ও ২০২২) জয় করেছেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পান।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, অ্যালিসা হিলি খেলাটির সর্বকালের সেরাদের একজন। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও হিলির প্রশংসা করে বলেন, অ্যালিসা হিলি একজন কিংবদন্তি। নারীদের ক্রিকেটের উত্থানে তার অবদান অনস্বীকার্য।” অবসরের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ডব্লিউএনসিএলে খেলবেন। তবে ডব্লিউবিবিএলে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ইতিমধ্যেই খেলা হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ২ পাচারকারী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা অ্যালিসা হিলির

প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সফল ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলি আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বহুজাতিক সিরিজ শেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন।

আটটি বিশ্বকাপজয়ী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ২০২৩ সালের শেষ দিকে মেগ ল্যানিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হন। ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে তিনি টি–টোয়েন্টি খেলবেন না, যাতে দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন এবং ৬-৯ মার্চ পার্থে দিবা-রাত্রির টেস্ট দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন।

উইলো টক পডকাস্টে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে হিলি বলেন, এটা অনেক দিন ধরেই হয়ে আসছিল। গত কয়েক বছর শারীরিকের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি ক্লান্তিকর ছিল। চোটও ছিল, আর ভেতরের শক্তিটা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছিল। বারবার নিজেকে নতুন করে উজাড় করে দেওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল।

হিলি আরও বলেন, আমি সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ও জিততে চেয়েছি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা পুরোপুরি হারাইনি, কিন্তু কিছুটা কমেছে। গত মৌসুমের ডব্লিউবিবিএল (নারী বিগ ব্যাশ) আমার জন্য একটা সতর্কবার্তা ছিল। একদিন সকালে উঠে মনে হওয়া—‘আরেকটা সাধারণ ক্রিকেটময় দিন’। আমাকেই অবাক করেছিল (এমন ভাবনা)। কারণ আমি ভাবতাম, আমি এখনো খেলাটাকে ভালোবাসি।

হিলির অবসরের সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন অধিনায়কের অধীনে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এ বিষয়ে হিলি বলেন, ‘এর মানে আমি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছি না। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নেতৃত্ব নিয়ে কিছু পরিবর্তন আসবে। তবে ঘরের মাঠে এই সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগটা আমার জন্য খুবই বিশেষ। টেস্ট শেষ হওয়ার পর ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্বকাপে না থাকায় আগেই সিদ্ধান্ত জানাতে হয়েছে। শেষটা ভারতের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, ঘরের মাঠে, সতীর্থ ও পরিবারের সামনে করতে পারাটা দারুণ মনে হয়েছে।’

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় হিলির। এরপর ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ওয়ানডেতে ৩হাজার ৫০০-এর বেশি এবং টি–টোয়েন্টিতে ৩ হাজার ৫৪ রান করেছেন। টি–টোয়েন্টিতে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৮* রান পূর্ণ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি নারী-পুরুষ মিলিয়ে টি–টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ডিসমিসালের রেকর্ডও তার দখলে।

ক্যারিয়ারে হিলি ছয়টি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৩) এবং দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০১৩ ও ২০২২) জয় করেছেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পান।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, অ্যালিসা হিলি খেলাটির সর্বকালের সেরাদের একজন। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও হিলির প্রশংসা করে বলেন, অ্যালিসা হিলি একজন কিংবদন্তি। নারীদের ক্রিকেটের উত্থানে তার অবদান অনস্বীকার্য।” অবসরের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ডব্লিউএনসিএলে খেলবেন। তবে ডব্লিউবিবিএলে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ইতিমধ্যেই খেলা হয়ে গেছে।