স্পোর্টস ডেস্ক :
তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়েছিল রংপুর রাইডার্স। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে তা যেন ছোট হয়ে এল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য। এই দুই ব্যাটারের ঝড়ো ফিফটিতে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে তারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান তোলে রংপুর। জবাবে ৫ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় রাজশাহী। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে শান্তর দল। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে রংপুর। শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসের পয়েন্ট ১০।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি রাজশাহীর। অফফর্মে থাকা তানজিদ হাসান তামিম যেন কিছুতেই রানের দেখা পাচ্ছেন না। আজও ব্যর্থ হয়েছেন এই ওপেনার। ৭ বলে ৩ রান করে তামিম ফিরলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১৩ রানে। সেই ধাক্কা তারা সামলে নেয় দ্রুত। আমিরাতি ওপেনার ওয়াসিম ও তিনে নামা শান্ত চড়াও হন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর। ফলে পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে যায় ৬২ রান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দলটিকে। দুজনে মিলে গড়েন ৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি। বিপিএলের ইতিহাসে রাজশাহীর পক্ষে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড এটি।
মাত্র ২৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা বাঁহাতি ব্যাটার শান্ত বিদায় নেন ৭৬ রানে। বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে ৪২ বলে তিনি হাঁকান ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে তার হাতেই। এবারের আসরের উদ্বোধনী সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এসেছিল শান্তর ব্যাট থেকে। বর্তমানে তার অবস্থান রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সবার ওপরে। ৭ ম্যাচে ৪৭.৮৩ গড় ও ১৪৮.৭০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৮৭ রান।
তারপর নিশাম টিকতে না পারলেও রায়ান বার্লকে নিয়ে ওয়াসিম ম্যাচ শেষ করে তবেই মাঠ ছাড়েন। তিনি ৫৯ বলে করেন অপরাজিত ৮৭ রান। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। ফলে ১৯.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছায় রাজশাহী। রংপুরের পক্ষে পাকিস্তানি পেসার আকিফ জাভেদ ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪৩ রান। অন্য শিকারটি ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে টস জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রাজশাহী। যেখানে ইনিংসের প্রায় অর্ধাংশজুড়ে আধিপত্য ছিল রাজশাহীর। ১১.২ ওভারে ৭২ রান তুলতেই রংপুর ৩ উইকেট হারায়। বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কায় দলটিকে এরপর লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছে হৃদয়-খুশদিল শাহ জুটি। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে ১০৫ রান যোগ করেন। খুশদিল ৪৪ রানে ফিরলেও, ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়।
এর আগে দলীয় ২৯ রানে কাইল মায়ার্সকে ফেরান রিপন মন্ডল। ৬ বলে ৮ রান করেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। তিনে নামা লিটন দাসও ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। ১৪ বলে ফেরেন ১১ রানে। ইফতিখার আহমেদ ছিলেন আরও ধীরগতির। তার ব্যাটে ১৫ বলে ৮ রান এসেছে। বাকি সময়ে হৃদয়-খুশদিল মিলে রংপুরকে সামনে টেনে নিয়ে গেছেন। তবে ৩ রানের আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হলো হৃদয়কে। ৭ বল বাকি থাকতে ৯২ রান করে সেঞ্চুরির প্রত্যাশা দেখিয়েছেন, কিন্তু পরের ওভারে স্ট্রাইক হারিয়ে সেটিও হাতছাড়া করেছেন। অবশ্য ওভারের শেষ বলটি পেয়েছিলেন, যা মিস করেছেন হৃদয়।
খুশদিল ২৯ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ এবং হৃদয় ৫৬ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৮ চার ও ৪ ছক্কায়। ফলে শুরুতে বড় পুঁজির অনিশ্চয়তায় ভোগা রংপুর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান তোলে। বিপরীতে রাজশাহীর হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, জেমস নিশাম ও সন্দ্বীপ লামিচানে।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























