Dhaka সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার ভর জনগণের কাছে নিতে সচেতনভাবে গণভোট দিতে হবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটে সকলকেই অংশ নিতে হবে, সংস্কার চাইলে গণভোটে যেতে হবে। ক্ষমতার ভর জনগণের কাছে নিতে চাইলে সচেতনভাবে গণভোট দিতে হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে নাগরিক পদক- ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তরুণরা এই ভোটের বড় একটি অংশ। শুধু স্বৈরাচার চলে গেল তাতে খুশি হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশে গণতন্ত্র চাইলে প্রত্যেক নাগরিককে তার নিজ নিজ অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সত্যিকারের ক্ষমতার ভর যদি সরকার থেকে জনগণের কাছে নিতে চান, তাহলে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। সামনে গণভোটে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করবো।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর ভার জনগণের পক্ষ থাকতে হলে, ক্ষমতা জনগণের দিকে রাখতে চাইলে- ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোট দেব। সেদিন দুটি ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেটা চিন্তা করে দেবেন; যাতে পরে পস্তাতে না হয়। একই দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটি দেবেন, সেটি হচ্ছে গণভোট। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, দেশবাসী যদি সত্যিই সংস্কার চায়, তবে উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ হতে হবে। এই সুযোগ হেলায় হারালে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সুযোগ আরও অনেক বছরের জন্য হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো পড়ার ও বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে সংস্কারের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি তরুণ সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তরুণরা যেভাবে স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাতে শুধু খুশি হয়ে বসে থাকলে চলবে না। অতীতের মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অর্জন যেন বৃথা না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘ভয়কে আমাদের জয় করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার ভয়কে জয় করেছে। তরুণরা আমাদের জন্য গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনায় যে আত্মবিসর্জন দিয়েছে, তার প্রতিফলন আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রয়োগ করব।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নগর উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মুন্সীগঞ্জে-৩ : স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ

ক্ষমতার ভর জনগণের কাছে নিতে সচেতনভাবে গণভোট দিতে হবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশের সময় : ০৩:২৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটে সকলকেই অংশ নিতে হবে, সংস্কার চাইলে গণভোটে যেতে হবে। ক্ষমতার ভর জনগণের কাছে নিতে চাইলে সচেতনভাবে গণভোট দিতে হবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে নাগরিক পদক- ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তরুণরা এই ভোটের বড় একটি অংশ। শুধু স্বৈরাচার চলে গেল তাতে খুশি হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশে গণতন্ত্র চাইলে প্রত্যেক নাগরিককে তার নিজ নিজ অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সত্যিকারের ক্ষমতার ভর যদি সরকার থেকে জনগণের কাছে নিতে চান, তাহলে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। সামনে গণভোটে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করবো।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর ভার জনগণের পক্ষ থাকতে হলে, ক্ষমতা জনগণের দিকে রাখতে চাইলে- ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোট দেব। সেদিন দুটি ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেটা চিন্তা করে দেবেন; যাতে পরে পস্তাতে না হয়। একই দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটি দেবেন, সেটি হচ্ছে গণভোট। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, দেশবাসী যদি সত্যিই সংস্কার চায়, তবে উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ হতে হবে। এই সুযোগ হেলায় হারালে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সুযোগ আরও অনেক বছরের জন্য হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো পড়ার ও বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে সংস্কারের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি তরুণ সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তরুণরা যেভাবে স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাতে শুধু খুশি হয়ে বসে থাকলে চলবে না। অতীতের মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অর্জন যেন বৃথা না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘ভয়কে আমাদের জয় করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার ভয়কে জয় করেছে। তরুণরা আমাদের জন্য গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনায় যে আত্মবিসর্জন দিয়েছে, তার প্রতিফলন আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রয়োগ করব।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নগর উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ।