Dhaka শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় বাস–সিএনজি–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাসে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত ৪

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাসের সঙ্গে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের পর আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হয়ে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে একজন পুরুষ, একজন নারী ও দুই শিশু। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের ভাষ্য, নিহতদের দুজন বাসের যাত্রী, দুজন মোটরসাইকেলের।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- মোটরসাইকেল আরোহী দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকার শামীম আহমেদ (৪০) এবং ছয় বছর বয়সী ছেলে নাদিভ আহমেদ। অন্য নিহত শিশুর নাম হুসাইন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১৮ মাস বয়সী এই শিশুর বাবা সুমনও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফেনীতে যাচ্ছিলেন।

যাত্রীরা বলছিলেন, বাসটি প্রথমে খুব ধীরে ধীরে চলছিল। পরে হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে দেয়। বাসটি তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, এতে অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে সেটি গিয়ে মোটরসাইকেলের উপর উঠে যায়।

বাসের যাত্রী সুমন সাংবাদিকদের বলছিলেন, দুর্ঘটনার আগে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সুপারভাইজারের ঝগড়া হয়। কারণ, চালক বাসটি খুব কম গতিতে চালাচ্ছিলেন। আর সুপারভাইজার যেখানে সেখানে থামিয়ে রাস্তা থেকে লোক তুলছিলেন। ঝগড়ার মধ্যে হঠাৎ করেই চালক গতি বাড়িয়ে দেন। তখন তিনি বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন আর দুর্ঘটনা ঘটে।

সুমন কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, আমি আমার ছেলেটাকে হারিয়ে ফেলেছি। সব দোষ ওই বাস চালকের।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন আমরা ঘটনাস্থলে চারজনের দগ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। পরে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গৌরীপুরে অবস্থিত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, বানিয়াপাড়া থেকে মোট ২৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা। চারজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আপাতত হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চারজন অগ্নিদগ্ধ ছিল।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, যাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চলে গেছেন।

দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক রাস্তায় ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মোটরসাইকেলের অকটেন ছড়িয়ে পড়লে আগুনও বেড়ে যায়। হয়ত ধোঁয়ার কারণে যাত্রীরা বাস থেকে বের হতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন, তারপরও আমরা তদন্ত করে দেখছি দুর্ঘটনার মূল কারণ কী?

পুলিশ জানায়, বাসটিকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছেন। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

কুমিল্লায় বাস–সিএনজি–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাসে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত ৪

প্রকাশের সময় : ০৩:২০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাসের সঙ্গে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের পর আগুন লেগে যায়। এতে দগ্ধ হয়ে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে একজন পুরুষ, একজন নারী ও দুই শিশু। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের ভাষ্য, নিহতদের দুজন বাসের যাত্রী, দুজন মোটরসাইকেলের।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- মোটরসাইকেল আরোহী দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকার শামীম আহমেদ (৪০) এবং ছয় বছর বয়সী ছেলে নাদিভ আহমেদ। অন্য নিহত শিশুর নাম হুসাইন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১৮ মাস বয়সী এই শিশুর বাবা সুমনও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফেনীতে যাচ্ছিলেন।

যাত্রীরা বলছিলেন, বাসটি প্রথমে খুব ধীরে ধীরে চলছিল। পরে হঠাৎ করেই গতি বাড়িয়ে দেয়। বাসটি তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়, এতে অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে সেটি গিয়ে মোটরসাইকেলের উপর উঠে যায়।

বাসের যাত্রী সুমন সাংবাদিকদের বলছিলেন, দুর্ঘটনার আগে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সুপারভাইজারের ঝগড়া হয়। কারণ, চালক বাসটি খুব কম গতিতে চালাচ্ছিলেন। আর সুপারভাইজার যেখানে সেখানে থামিয়ে রাস্তা থেকে লোক তুলছিলেন। ঝগড়ার মধ্যে হঠাৎ করেই চালক গতি বাড়িয়ে দেন। তখন তিনি বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন আর দুর্ঘটনা ঘটে।

সুমন কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, আমি আমার ছেলেটাকে হারিয়ে ফেলেছি। সব দোষ ওই বাস চালকের।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে পুরো বাসে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন আমরা ঘটনাস্থলে চারজনের দগ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। পরে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গৌরীপুরে অবস্থিত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, বানিয়াপাড়া থেকে মোট ২৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা। চারজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আপাতত হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চারজন অগ্নিদগ্ধ ছিল।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, যাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চলে গেছেন।

দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক রাস্তায় ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মোটরসাইকেলের অকটেন ছড়িয়ে পড়লে আগুনও বেড়ে যায়। হয়ত ধোঁয়ার কারণে যাত্রীরা বাস থেকে বের হতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন, তারপরও আমরা তদন্ত করে দেখছি দুর্ঘটনার মূল কারণ কী?

পুলিশ জানায়, বাসটিকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছেন। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।