Dhaka শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর হেসেখেলে হারিয়ে জিতল রাজশাহী

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যক্তিগত কারণে প্রথম তিন ম্যাচ না খেলা সৌম্য সরকার ফিরে দুই ম্যাচ ছিলেন ব্যর্থ, তৃতীয় ম্যাচে রান পেলেন তিনি। তবে তার লড়াকু ফিফটির পরও লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রান তাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের টর্নেডো ইনিংসে হেসেখেলে জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। সৌম্যের ৪৩ বলে ৫৯ রানের সৌজন্যে নোয়াখালীর করা ১৫১ রান ৬ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে রাজশাহীর নায়ক আমিরাতের ওয়াসিম।

এই হারে বিপিএলে নবাগত দল নোয়াখালীর হারের বৃত্ত আরও দীর্ঘ হলো; টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন রইল তারা। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল রাজশাহী।

১৫৩ রানের লক্ষ্যে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪.৫ ওভারে ৪৭ রান করে ফেলে রাজশাহী। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে তানজিদ হাসান তামিমকে (২১) বোল্ড করে বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান রানা। তিন নম্বরে নামা রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ বলে ১ রান করে আউট হয়েছেন। তাঁর উইকেটটাও নিয়েছেন রানা। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাঁ দিকে উড়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন অসাধারণ ক্যাচ ধরতেই মূলত শান্তর ইনিংস তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।

রানা দ্রুত ২ উইকেট নেওয়ায় রাজশাহীর স্কোর হয়ে যায় ৬.২ ওভারে ২ উইকেটে ৬১ রান। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা মুশফিকুর রহিম এবং ওয়াসিম এরপর দলের জয়ের কাজ অনেকটাই সেরে ফেলেন। তৃতীয় উইকেটে ৩৭ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-ওয়াসিম। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়েছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৬১ রান করেন আমিরাতের এই ব্যাটার।

ওয়াসিম আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জয়ের জন্য যখন ১ রান দরকার, তখন রাজশাহীর এসএম মেহেরবকে (৮) ফিরিয়েছেন রানা। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রানা উইকেট নেওয়ার দুই বলের মধ্যে রাজশাহী জয় নিশ্চিত করে। নোয়াখালীর রানা ৪ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নবি ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট নিয়েছেন। রাজশাহীর এক ওভারে জয় নিশ্চিতের পর ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়াসিম।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল নোয়াখালী। প্রথম উইকেটে তুলেছিল ৫৭ রান। উইকেট না পড়লেও ধীর গতিতে এগোতে থাকে তারা। ২৮ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার শাহাদাত হোসেন। ১৩ বলে ৭ রান করে তাকে সঙ্গ দেন মাজ সাদাকাত। কিন্তু অপর প্রান্ত আগলে রেখে ৪০ বলে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য সরকার।

এরপর পিচে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ৪৩ বলে ৫৯ রান করে ক্যাচ আউট হন তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ নবী। কিন্তু ২৬ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত হায়দার আলীর ৬ বলে ৩ রান এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১০ রানে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানের পুঁজি পায় নোয়খালী।

বিপরীতে রাজশাহীর পক্ষে ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন রিপন মন্ডল। এ ছাড়া শান্ত, বিনুরা ফার্নান্দো এবং হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত

নোয়াখালীর হেসেখেলে হারিয়ে জিতল রাজশাহী

প্রকাশের সময় : ০৫:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ব্যক্তিগত কারণে প্রথম তিন ম্যাচ না খেলা সৌম্য সরকার ফিরে দুই ম্যাচ ছিলেন ব্যর্থ, তৃতীয় ম্যাচে রান পেলেন তিনি। তবে তার লড়াকু ফিফটির পরও লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রান তাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের টর্নেডো ইনিংসে হেসেখেলে জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। সৌম্যের ৪৩ বলে ৫৯ রানের সৌজন্যে নোয়াখালীর করা ১৫১ রান ৬ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে রাজশাহীর নায়ক আমিরাতের ওয়াসিম।

এই হারে বিপিএলে নবাগত দল নোয়াখালীর হারের বৃত্ত আরও দীর্ঘ হলো; টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন রইল তারা। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল রাজশাহী।

১৫৩ রানের লক্ষ্যে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪.৫ ওভারে ৪৭ রান করে ফেলে রাজশাহী। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে তানজিদ হাসান তামিমকে (২১) বোল্ড করে বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান রানা। তিন নম্বরে নামা রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ বলে ১ রান করে আউট হয়েছেন। তাঁর উইকেটটাও নিয়েছেন রানা। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাঁ দিকে উড়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন অসাধারণ ক্যাচ ধরতেই মূলত শান্তর ইনিংস তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।

রানা দ্রুত ২ উইকেট নেওয়ায় রাজশাহীর স্কোর হয়ে যায় ৬.২ ওভারে ২ উইকেটে ৬১ রান। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা মুশফিকুর রহিম এবং ওয়াসিম এরপর দলের জয়ের কাজ অনেকটাই সেরে ফেলেন। তৃতীয় উইকেটে ৩৭ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-ওয়াসিম। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়েছেন ওয়াসিম। ৩৫ বলে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৬১ রান করেন আমিরাতের এই ব্যাটার।

ওয়াসিম আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জয়ের জন্য যখন ১ রান দরকার, তখন রাজশাহীর এসএম মেহেরবকে (৮) ফিরিয়েছেন রানা। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রানা উইকেট নেওয়ার দুই বলের মধ্যে রাজশাহী জয় নিশ্চিত করে। নোয়াখালীর রানা ৪ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নবি ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট নিয়েছেন। রাজশাহীর এক ওভারে জয় নিশ্চিতের পর ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়াসিম।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল নোয়াখালী। প্রথম উইকেটে তুলেছিল ৫৭ রান। উইকেট না পড়লেও ধীর গতিতে এগোতে থাকে তারা। ২৮ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার শাহাদাত হোসেন। ১৩ বলে ৭ রান করে তাকে সঙ্গ দেন মাজ সাদাকাত। কিন্তু অপর প্রান্ত আগলে রেখে ৪০ বলে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য সরকার।

এরপর পিচে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ৪৩ বলে ৫৯ রান করে ক্যাচ আউট হন তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ নবী। কিন্তু ২৬ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত হায়দার আলীর ৬ বলে ৩ রান এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১০ রানে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানের পুঁজি পায় নোয়খালী।

বিপরীতে রাজশাহীর পক্ষে ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন রিপন মন্ডল। এ ছাড়া শান্ত, বিনুরা ফার্নান্দো এবং হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।