চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে তারা সব দায়দায়িত্ব নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লতিফুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। লতিফুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির। তাঁর ওই বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অধ্যাপক লতিফুর রহমান ওই বৈঠকে বলেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন হতে চলেছে। আমাদের দলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, আপনাদের দায়দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানা—যেকোনো দায়দায়িত্ব আমরা নেব ইনশা আল্লাহ। আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনারা বিএনপি থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনাদের দায়িত্ব নেব। জামায়াতে ইসলামীকে সে আইগল্যা জামাতি (আগের জামায়াত) মনে করিয়েন না। এখন শক্তিশালী জামায়াত।’
লতিফুর রহমান বলেন, ‘নবাবগঞ্জের সমগ্র সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে। হ্যালো ওসি সাহেব, হ্যালো এসপি সাহেব, হ্যালো ডিআইজি সাহেব, লতিফুর রহমান ছাড়া কোনো নেতার কাছে মানুষেরা যায় না। কি, কথা ঠিক না?’ এ সময় কয়েকজন ‘ঠিক ঠিক’ বলেন।
লতিফুর বলতে থাকেন, ‘এই জন্য যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় এখানে থাকবেন। আপনাদের আইন-আদালত, কোর্ট-কাচারি, থানা আমরা দায়িত্ব নেব, ইনশা আল্লাহ। আমরা বিএনপির লোকদেরকে দাওয়াত দিচ্ছি। আমরা হিন্দু ভাইদের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছি।’ আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দেওয়া একজনের উদাহরণ দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমার ছোট ভাই দুলাল আওয়ামী লীগের লোক ছিল, আজকে জামায়াতে ইসলামের লোক হয়েছে। অপরাধ করেছে? কি বলেন, অপরাধ করেছে? বরং উনি বেঁচে গেছেন জাহান্নামের আগুন থেকে। আমি নিজেও আওয়ামী লীগ পরিবারের ছেলে। আমি একাত্তরের শহীদ পরিবারের ছেলে। আমি দেশ স্বাধীনের জন্য ৬৯ থেকে ৭৫ পর্যন্ত কাজ করেছি। আমি ১৯৭৬ সালে মুসলমান হয়েছি, আমাকে মুসলমান বানায়ছে ইসলামী ছাত্রশিবির।’
লতিফুর বলেন, ‘আমি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে ঋণী। আমাকে কোরআন শিখিয়েছে। নামাজ শিখিয়েছে। মুসলমানের কায়দা শিখিয়েছে। আইনকানুন শিখিয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। আর আজকে কি? যারা আওয়ামী লীগ করত, জামায়াতে আইসছে (আসছে), ওরঘে (ওদের) বাড়ি পুলিশ পাঠাছে। আমি এখান থেকেই বলে দিলাম ডিবি পুলিশকে। এভাবে ডিস্টার্ব করবেন না।’
বৈঠক থেকে বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আপনারা এত বেহুঁশ হয়ে কথা বলছেন কেন? আপনারা আমাদেরকে রগ কাটা পার্টি বলছেন কেন? কেন এগুলা কথা বলছেন? মানুষের যখন বলার কিছু থাকে না, তখন আবোল-তাবোল কথা বলে, তাই না? একটা কথা আছে, রাইগল্যা তো হাইরল্যা। এই কথা আর বলিও না। এইগলা জনগণ আর খাচ্ছে না। নতুন কথা নিয়ে আসেন। কী করেছেন, আগামীতে কী করবেন, এই বক্তব্য নিয়ে আসেন।’
লতিফুর বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, আগামী দিনে বাংলাদেশে একটা পরিবর্তন হচ্ছে, আপনারা দোয়া করেন। আগামী দিনে পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম, আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হবে। আলেম-ইসলামের নামে যত দল আছে, ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এরপরে বিএনপির দুইজন মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামের সাথে এখন। নাম হলো মেজর আক্তার এবং কর্নেল অলি আহমদ। তাহলে ওরাকে বলেন, জামায়াতে আইলো কেন ওরা। ওরা বুঝতে পেরেছে, এখানে থেকে লাভ হবে না।’
অধ্যাপক লতিফুর রহমান গত বছরের আগস্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সময় আজমীরা আরেফিন নামের এক প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানের ফেসবুকে তাঁর প্রবেশপত্রের ছবি স্টোরি হিসেবে প্রকাশ পেয়ে যায়। ওই প্রবেশপত্রের ওপর রেফারেন্স হিসেবে ইংরেজিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানের নাম লেখা ছিল। তখন বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জামায়াতের সাবেক এই সংসদ সদস্য।
এবার আওয়ামী লীগের লোকজনকে জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বানের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার সকালে লতিফুর রহমানকে ফোন করতেই বললেন, জি ভাই, কী আবার পাইলেন আপনারা?’ আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না উগলা বলিনি। আমি বলেছি, দল-মতনির্বিশেষে ইসলামের পথে আপনারা আসেন। হিন্দু ভাইয়েরা, আওয়ামী লীগ ভাইয়েরা, বিএনপির ভাইয়েরা, সব আসেন। এভাবে বলেছি। আমি বলেছি, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আওয়ামী লীগ—যা আছে সব। আপনারা আল্লাহর আইন কায়েমের পথে আসেন। এতটুকুই। ভাই আমি একটু ব্যস্ত আছি। খোদা হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 





















