আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
তিন দিনের পাকিস্তান ও শ্রীলংকা সফরের অংশ হিসেবে সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ ইব্রাহিম রাইসি। এই সময় তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে পাকিস্তান।
গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পাকিস্তানে সফর করছেন রাইসি।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সোমবার তিন দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। এদিন সকালে নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানি প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের গৃহায়ন ও পূর্তমন্ত্রী মিয়া রিয়াজ হোসেন পীরজাদা।
এই সফরে নিজেদের সম্পর্ক বাড়াতে এবং বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, কৃষি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে দুই দেশের নেতারা আলোচনা করবেন। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।
পাকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রেসিডেন্ট রাইসি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করবেন এবং এরপর দুই সরকারপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।
প্রেসিডেন্ট রাইসি ইসলামাবাদে পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গেও কথা বলবেন। তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর সফর করবেন এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেমদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।
পাকিস্তান সফর শেষে বুধবার (২৪ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের আমন্ত্রণে একদিনের সফরে দেশটির রাজধানী কলম্বো যাবেন। এই সফরে রনিল বিক্রমাসিংহে ইরানের প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে দু’টি বাঁধ ও একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৫৩ কোটি ডলারের প্রকল্পটি ইরানি বিশেষজ্ঞরা নির্মাণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েক মাস আগে পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা পৌঁছায় চরমে। তবে কূটনীতির মাধ্যমে সম্পর্ক জোড়া লাগায় মুসলিম বিশ্বের শক্তিধর এই দুই দেশ। পাকিস্তানের নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ইব্রাহিম রাইসির এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট রাইসির সাথে তার স্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলও থাকবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, ‘পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, কৃষি, এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য উভয় পক্ষের বিস্তৃত এজেন্ডা থাকবে। তারা সন্ত্রাসবাদের অভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ঘটনা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন।’
উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরান নজিরবিহীন ভাবেই পাকিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা করে। জবাবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ইরানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
উভয় হামলাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মূলত এটিই ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রথম কোনও বড় ধরনের উত্তেজনা।
অবশ্য দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিলেও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির পাকিস্তানে এই সফরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গত কয়েকদিন ধরে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলাসহ উত্তেজনা চলছে।
এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও গত সপ্তাহে পাকিস্তানে সফর করেছিলেন।