Dhaka শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’ তারা থাকছে না।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরোনো পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা এ দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কাজ করে আসছি। আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এজন্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকালকে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যেখানে আমরাও ছিলাম, সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশে আমরা ইসলামপন্থি শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম। আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি সামনে আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি সেভাবে করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। ইসলামকে আমরা আগে রাখি। আমরা নীতি-আদর্শের রাজনীতি করি। সেখানে আমরা দেখছি, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে, রাজনৈতিক প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি। সেজন্য আমরা আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে আপিলে দুইজন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী এখন পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি, তারা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এখানে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় শক্তি ছিল। অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের শক্তি-সামর্থ্য অনেক বেশি। কিন্তু আমরা আদর্শিকভাবে, নৈতিকভাবে কারো চেয়ে দুর্বল নই।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত নারী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, জামায়াতের আমির শরিয়া প্রতিষ্ঠা, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই ওয়াদা তিনি করেছেন। এজন্য আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। এই বিষয়টা যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে চলছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। কারণ, আজ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামের সমান আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, যদি ইসলামী আইনের প্রতি তাদের আস্থা না থাকেৃ তাহলে আমরা যে কর্মী, সমর্থক সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে। বাকি ৩২টি আসন বর্তমানে ফাঁকা। তবে সেই আসনগুলোতেও আমরা সমর্থন দেব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব ঠিক কাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের নীতি, আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল থাকবে, তেমন যোগ্য প্রার্থীদেরই আমরা ইনশাআল্লাহ সমর্থন জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে গোটা বাংলাদেশের ৩০০ আসনেই জনগণ চরমোনাই তথা ইসলামের সপক্ষে রায় দেবে। আগামী নির্বাচনে যেন সেই জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে, আমরা ইনশাআল্লাহ সেই ব্যবস্থাই গ্রহণ করবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ১১ দলীয় জেটের আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়। এতে বলা হয়, জামায়াত ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এছাড়া এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সাত, বাংলাদেশ ডেপেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুই ও নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি আসনে লড়বে। তখন অন্য তিন দলের আসন ঘোষণা করা হয়নি। এতে ছিল ইসলামী আন্দোলনসহ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’ তারা থাকছে না।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরোনো পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা এ দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কাজ করে আসছি। আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এজন্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকালকে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যেখানে আমরাও ছিলাম, সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশে আমরা ইসলামপন্থি শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম। আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি সামনে আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি সেভাবে করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। ইসলামকে আমরা আগে রাখি। আমরা নীতি-আদর্শের রাজনীতি করি। সেখানে আমরা দেখছি, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে, রাজনৈতিক প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি। সেজন্য আমরা আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে আপিলে দুইজন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী এখন পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি, তারা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এখানে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় শক্তি ছিল। অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের শক্তি-সামর্থ্য অনেক বেশি। কিন্তু আমরা আদর্শিকভাবে, নৈতিকভাবে কারো চেয়ে দুর্বল নই।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত নারী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, জামায়াতের আমির শরিয়া প্রতিষ্ঠা, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই ওয়াদা তিনি করেছেন। এজন্য আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। এই বিষয়টা যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে চলছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। কারণ, আজ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামের সমান আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, যদি ইসলামী আইনের প্রতি তাদের আস্থা না থাকেৃ তাহলে আমরা যে কর্মী, সমর্থক সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছে। বাকি ৩২টি আসন বর্তমানে ফাঁকা। তবে সেই আসনগুলোতেও আমরা সমর্থন দেব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব ঠিক কাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের নীতি, আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল থাকবে, তেমন যোগ্য প্রার্থীদেরই আমরা ইনশাআল্লাহ সমর্থন জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে গোটা বাংলাদেশের ৩০০ আসনেই জনগণ চরমোনাই তথা ইসলামের সপক্ষে রায় দেবে। আগামী নির্বাচনে যেন সেই জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে, আমরা ইনশাআল্লাহ সেই ব্যবস্থাই গ্রহণ করবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ১১ দলীয় জেটের আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়। এতে বলা হয়, জামায়াত ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এছাড়া এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সাত, বাংলাদেশ ডেপেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুই ও নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি আসনে লড়বে। তখন অন্য তিন দলের আসন ঘোষণা করা হয়নি। এতে ছিল ইসলামী আন্দোলনসহ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা।