নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের হলফনামায় সম্পদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, তখন তা খতিয়ে দেখলে শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুদক মিডিয়া সেন্টারে রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র্যাক) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের মনে করিয়ে দেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি সম্পদের হলফনামায় যে বিবরণী দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে আমরা যে সম্পত্তি পেয়েছি তার মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান। সে সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে যদি কাজ করতো তাহলে সেই সময়ই তার এই প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়নি।
হলফনামা অনুসন্ধানের সাংবাদিকদের সাহায্য চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কোনো হলফনামার কোনো কোনো ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে আপনারা যদি সন্ধিহান হন, অনুগ্রহ করে আপনারা এটা সবার আগে আমাদের হাতে দিন। আপনারা নিজেরাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানকে সহায়তা করুন। আমরা চাবো না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এরকম সম্পদের মালিক আগামী দিনের শাসক হিসেবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা সুশাসন সবার জন্য সুশাসন এবং ন্যায়বিচার। কাজেই ন্যায়নিষ্ঠ এবং সুবিচার সম্পন্ন একটি রাষ্ট্র গঠন করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমাদের প্রত্যাশায় এই বছর আমরা সেগুলো পাবো। তারপরও কতগুলো সংকট থেকে যায়। আমাদের দুর্নীতি তো আমাদের একটি বড় সংকট এমনিতেই এই দুর্নীতি যাতে নিরসন হয় আমরা সেদিকটা সবাই লক্ষ্য রাখবো।
তিনি বলেন, ২০২৬ দেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশাল পরিবর্তনের পর গণতন্ত্রের উত্তরণের বছর। আশা করি, ভালো শাসক আমাদের শাসন করবে।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে ড. আবদুল মোমেন বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আমাদের পক্ষে অত সূক্ষ্মভাবে কাজ করা কঠিন। আপনারা যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে সন্দিহান হন, তবে অনুগ্রহ করে সেই তথ্য সবার আগে আমাদের দিন। আপনারা নিজেরাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে আমাদের সহায়তা করুন। আমরা চাইব না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি, এমন সম্পদের মালিক আগামী দিনে শাসক হিসেবে আসুক।’
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের জন্য দুর্নীতি নিরসন জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যারা শাসক হবেন তারা যেন অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হন।
দুদক চেয়ারম্যান ছাড়াও দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ , সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। র্যাকের সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















