Dhaka বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল নয় : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমান মাছউদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এ মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।

ইসি মাছউদ বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ গুরুতর প্রকৃতির হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন- একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আমাদের সহায়তা করবেন।

ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও জোরপূর্বক আর্মস নিয়ে যেতে চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই কমিটি ঘটনার সত্যতা যদি পান এবং যদি দেখেন যে কেউ কোনও ব্যক্তি বা কোনও প্রার্থী বা কোনও ভোটার যে কেউ হোক আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কমিশনের কাছে সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে।

নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সারা দেশে প্রায় ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযোগের সত্যতা পেলে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনও অভিযোগ সরাসরি কমিটির কাছে দাখিল করা হলে কিংবা গণমাধ্যম বা অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি আমলে নিতে পারে। তদন্ত শেষে তারা কমিশনের কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাঠাবে এবং সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আর যদি খুব গুরুতর কোনও বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলবো।

অভিযোগ দায়ের ও ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি (ম্যাজিস্ট্রেট) কোনও একটা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির কাছে যদি কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা কোনও রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্টরাল ইনকয়ারিয়াম এক্সিকিউটিং কমিটি অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে, তারা এ বিষয়টিকে আমলে নেবেন এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের কাছে তাদের প্রতিবেদন পাঠাবেন, রিকমেন্ডেশন সুপারিশ পাঠাবেন, সেই অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, বহু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতোপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।

যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যদি নির্বাচনের নিয়োজিত কোনও কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব বা দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল নয় : ইসি

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমান মাছউদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এ মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।

ইসি মাছউদ বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ গুরুতর প্রকৃতির হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন- একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আমাদের সহায়তা করবেন।

ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও জোরপূর্বক আর্মস নিয়ে যেতে চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই কমিটি ঘটনার সত্যতা যদি পান এবং যদি দেখেন যে কেউ কোনও ব্যক্তি বা কোনও প্রার্থী বা কোনও ভোটার যে কেউ হোক আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কমিশনের কাছে সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে।

নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সারা দেশে প্রায় ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অভিযোগের সত্যতা পেলে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনও অভিযোগ সরাসরি কমিটির কাছে দাখিল করা হলে কিংবা গণমাধ্যম বা অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি আমলে নিতে পারে। তদন্ত শেষে তারা কমিশনের কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাঠাবে এবং সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আর যদি খুব গুরুতর কোনও বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলবো।

অভিযোগ দায়ের ও ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি (ম্যাজিস্ট্রেট) কোনও একটা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির কাছে যদি কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা কোনও রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্টরাল ইনকয়ারিয়াম এক্সিকিউটিং কমিটি অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে, তারা এ বিষয়টিকে আমলে নেবেন এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের কাছে তাদের প্রতিবেদন পাঠাবেন, রিকমেন্ডেশন সুপারিশ পাঠাবেন, সেই অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, বহু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতোপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।

যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যদি নির্বাচনের নিয়োজিত কোনও কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব বা দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।