নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে ‘নিজেদের দোষ স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট সীমান্তে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে আটকের কথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে এ মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিন এবং ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুই দফা রিমান্ড শেষে ২৬ ডিসেম্বর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁদের তিন দিন করে তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
অন্যদিকে ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদী থেকে ফয়সালকে আটক করে। পরে তাঁকে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আজ রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১–এর একটি দল তাঁকে নরসিংদী সদর থেকে আটক করে। পরে নরসিংদীতে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আজ তিনজনের রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে আনা হলে সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। আর সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার, তাঁর শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির ও আমিনুল। তাঁদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক ও আমিনুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















