নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংবেদনশীল স্থান হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়ন করানো) ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দ্বীপ থানা হাতিয়ায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন অভিযুক্তদের বদলি ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার খবরটি প্রকাশের পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন।
কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম। এ কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
এছাড়া ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক হাতিয়া থানার বিভিন্ন ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। এরা হলেন- সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।
এর আগে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় হত্যাসহ একাধিক মামলায় জেলে থাকা দুই আওয়ামী লীগ নেতার পরিবার ওই ‘বেয়াইখানার’ আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় আদালতের সুরক্ষিত স্থান নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত হাজতখানার ভেতরে আসামি আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।
দুই নেতার পারিবারিক সূত্র জানায়, হাজতখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর গত ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয়।
কিন্তু দুই বেয়াই হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় জেলখানায় থাকায় সোমবার হাজিরার দিন আদালতের হাজতখানায় ওই বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা চলমান। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, খবরটি প্রকাশ হলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশকে হাতিয়ার বিভিন্ন ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। আর গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
হাজতখানায় বেয়াইখানার একটি ভিডিও হাতে পেয়ে অনুসন্ধান করে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ‘হাজতখানায় পরিবার নিয়ে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বেয়াইখানা’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 






















