Dhaka শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান, এটা দালিলিকভাবে প্রমাণিত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অস্বীকার করে। মেজর জিয়াউর রহমান যে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এটা দালিলিকভাবে প্রমাণিত। এটা আন্তর্জাতিক দলিলেও প্রমাণিত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক, তা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করে, তখনই চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন।

তিনি বলেন, দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ইতিহাস অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে সংবিধানের প্রস্তাবনায় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরকে সমান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস অনন্য ও অবিসংবাদিত।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক, তা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করে, তখনই চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন। দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার মিথ্যা দলিল ও বয়ান তৈরি করেছে। তারা নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে প্রকৃত ইতিহাসকে অস্বীকার করেছে এবং সবকিছুকে কেবল একজনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ কাউকে ক্রেডিট দিতে রাজি নয়। কিন্তু আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই, কারো সম্মান কেড়ে নিতে চাই না।

আলোচনা সভায় বিএনপির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতি প্রবর্তনে বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। বিএনপি সবসময়ই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও নতুন করে বিনির্মিত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থান আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, এখন আমাদের কাজ হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দেশ গঠন করা।

তিনি আরও জানান, সরকার সংসদীয় রাজনীতির চর্চা এবং আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

বিএনপির নেতা বলেন, আমরা কারো অবদান অস্বীকার করতে চাই না। তবে সত্য ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, তৎকালীন জাতির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণাও পুনঃপ্রচার করা হয়েছিল, যা ইতিহাসের অংশ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং বিএনপির ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনেও দলীয় নেতা-কর্মী ও ছাত্রসমাজের ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আবহাওয়া

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক মিষ্টি সুবাসসহ ২ জন রিমান্ডে

স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান, এটা দালিলিকভাবে প্রমাণিত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অস্বীকার করে। মেজর জিয়াউর রহমান যে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এটা দালিলিকভাবে প্রমাণিত। এটা আন্তর্জাতিক দলিলেও প্রমাণিত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক, তা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করে, তখনই চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন।

তিনি বলেন, দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ইতিহাস অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে সংবিধানের প্রস্তাবনায় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরকে সমান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস অনন্য ও অবিসংবাদিত।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক, তা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করে, তখনই চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন। দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার মিথ্যা দলিল ও বয়ান তৈরি করেছে। তারা নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে প্রকৃত ইতিহাসকে অস্বীকার করেছে এবং সবকিছুকে কেবল একজনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ কাউকে ক্রেডিট দিতে রাজি নয়। কিন্তু আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই, কারো সম্মান কেড়ে নিতে চাই না।

আলোচনা সভায় বিএনপির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতি প্রবর্তনে বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। বিএনপি সবসময়ই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও নতুন করে বিনির্মিত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থান আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, এখন আমাদের কাজ হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দেশ গঠন করা।

তিনি আরও জানান, সরকার সংসদীয় রাজনীতির চর্চা এবং আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

বিএনপির নেতা বলেন, আমরা কারো অবদান অস্বীকার করতে চাই না। তবে সত্য ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, তৎকালীন জাতির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণাও পুনঃপ্রচার করা হয়েছিল, যা ইতিহাসের অংশ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং বিএনপির ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনেও দলীয় নেতা-কর্মী ও ছাত্রসমাজের ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।