Dhaka বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কক্ষে তাদের দুজনকে শপথ পড়ানো হয়। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে। এরপর শপথ পড়ান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসনের ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

তাদের দুজনকে শপথ পাঠ করানোর পরে নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়।

এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা।

তিনি জানান, স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়নটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। তিনি এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান সভাপতি।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান সভাপতি। নুরুল ইসলাম প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। এতে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবও ছিলেন তিনি।

তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদেও একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সেটি নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তিনিও এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দীন নিজান। এতেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।

এরপর অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের সময় : ০১:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কক্ষে তাদের দুজনকে শপথ পড়ানো হয়। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে। এরপর শপথ পড়ান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসনের ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

তাদের দুজনকে শপথ পাঠ করানোর পরে নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়।

এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা।

তিনি জানান, স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়নটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। তিনি এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান সভাপতি।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান সভাপতি। নুরুল ইসলাম প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। এতে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবও ছিলেন তিনি।

তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদেও একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সেটি নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তিনিও এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দীন নিজান। এতেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।

এরপর অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।