Dhaka রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ফরিদপুরের দুই উপজেলার ৩ লাখ মানুষ

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার মধ্যে বল্লভদী ইউনিয়নের কামারদিয়া বাজার এলাকায় কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ। সরাসরি সেতু না থাকায় স্থানীয়দের ভরসা শুধু বর্ষায় খেয়া নৌকা আর খরায় বাঁশের সাঁকো। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন নদী পারাপার করতে হয় এলাকাবাসীকে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই দুরবস্থার কারণে স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শহরে কৃষিপণ্য পরিবহনে নদী পারাপারের ঝামেলায় পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখানকার মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকিও তৈরি হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় ভালো ঘর পাওয়া যায় না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ যাতায়াত ভোগান্তি আরও বেশি।

কামারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র রবিউল ইসলাম জানান, বর্ষায় খেয়া ধরতে না পারলে ঘাটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে পড়াশোনাও ব্যাহত হয়।

খেয়া ঘাটের মাঝি জমির মিয়া বলেন, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাস হলেই পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। কচুরিপানার কারণে মাঝেমধ্যেও চলাচল বন্ধ থাকে। সব জায়গায় এখন ব্রিজ হয়েছে, শুধু এখানে হয়নি। ব্রিজ হলে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেত।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন জানান, এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ পাশের এলাকায় কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাফর মিয়া বলেন, ওই স্থানে আইডিবি প্রকল্পভুক্ত রাস্তা না থাকলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, কামারদিয়া খেয়াঘাটে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নয়ন ঘটবে। সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পেলে বদলে যাবে দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ফরিদপুরের দুই উপজেলার ৩ লাখ মানুষ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : 

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার মধ্যে বল্লভদী ইউনিয়নের কামারদিয়া বাজার এলাকায় কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ। সরাসরি সেতু না থাকায় স্থানীয়দের ভরসা শুধু বর্ষায় খেয়া নৌকা আর খরায় বাঁশের সাঁকো। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন নদী পারাপার করতে হয় এলাকাবাসীকে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই দুরবস্থার কারণে স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শহরে কৃষিপণ্য পরিবহনে নদী পারাপারের ঝামেলায় পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখানকার মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকিও তৈরি হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় ভালো ঘর পাওয়া যায় না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ যাতায়াত ভোগান্তি আরও বেশি।

কামারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র রবিউল ইসলাম জানান, বর্ষায় খেয়া ধরতে না পারলে ঘাটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে পড়াশোনাও ব্যাহত হয়।

খেয়া ঘাটের মাঝি জমির মিয়া বলেন, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাস হলেই পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। কচুরিপানার কারণে মাঝেমধ্যেও চলাচল বন্ধ থাকে। সব জায়গায় এখন ব্রিজ হয়েছে, শুধু এখানে হয়নি। ব্রিজ হলে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেত।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন জানান, এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ পাশের এলাকায় কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাফর মিয়া বলেন, ওই স্থানে আইডিবি প্রকল্পভুক্ত রাস্তা না থাকলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, কামারদিয়া খেয়াঘাটে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নয়ন ঘটবে। সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পেলে বদলে যাবে দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান।