নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, সবাই মিলে আমরা যে নির্বাচন করেছি এজন্য আমি আনন্দিত। আমি আনন্দিত এজন্য যে জাতির কাছে যে ওয়াদা ছিল তা পূরণ করেছি।
সোমবার (১৬ মার্চ) নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্টের অডিটরিয়ামে নারী দিবস উপলক্ষে ইউএনডিপি ও ইসির যৌথ উদ্যোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ জোরদার করা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু নির্বাচন। সুন্দর নির্বাচনের জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। আমি শত শত মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা কেউ বলতে পারেনি যে, আমি আমার ভোট দিতে পারিনি। গত নির্বাচনে আমি অনেক বয়স্ক নারীদের জিজ্ঞেস করেছি যে, আপনার কোনো বাধা-বিপত্তি পেয়েছেন কি না? সবাই আমাকে বলেছেন, না আমরা কোনো বাধা পাইনি।
তিনি বলেন, আমি একজনের কথা শুনি নাই যে তারা ভোট দিতে পারেনি। অতীতে আমরা দেখেছি সুন্দর ভোট হলে আপত্তিগুলো উঠে ভোট হয়ে যাওয়ার পরে। সবাই মিলে আমরা যে নির্বাচন করেছি এজন্য আমি আনন্দিত। আমি আনন্দিত এজন্য যে আমি জাতির কাছে যে ওয়াদা ছিল তা পূরণ করেছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির মান নিয়ে নিজের মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট দেওয়ার বেশ কয়েকদিন পার হলেও আঙুলের কালি না ওঠায় হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, কালি তো উঠছে না। ভয় হচ্ছে সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট (স্থানীয় সরকার) নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কি না!
সিইসি বলেন, নির্বাচনের পর তার এক সাবেক সহকর্মী ফেসবুকে তাকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন ‘মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আপনি কি কালি লাগিয়েছেন? এই কালি তো উঠছে না।
এ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও চেক করে দেখেছি, আমার হাতের কালি এখনো আছে। আমি জানি না স্টিভ লিজ (সরবরাহকারী) কী ম্যাজিক করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই আমরা সেরা মানের কালি দিয়েছি। সাধারণত ভোট দিয়ে ঘষা দিলে কালি চলে যায়, কিন্তু এবারের কালি অবিশ্বাস্য রকম টেকসই।
কালির মান যেমন টেকসই ছিল, নির্বাচনও তেমনি সুন্দর হয়েছে বলে দাবি করেন সিইসি। তিনি বলেন, আমি শত শত মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি, কেউ বলেনি যে ভোট দিতে পারিনি। বিশেষ করে নারী ও মাইনরিটি কমিউনিটির (সংখ্যালঘু) ভোটারদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছি তারা কোনো বাধা পেয়েছেন কি না। সবাই বলেছেন তারা সপরিবারে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।
সিইসি আবারও ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহারে নিজের আপত্তির কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে মাইনরিটি কিসের? আমরা তো এক জাতি। রিলিজিয়াস অর্থে হয়তো বিভাজন করা হয়, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবাই সমান এবং সবার সমান অধিকার।
দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি গণনায় নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়ে যেত।
নির্বাচন পরবর্তী অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিইসি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তদন্ত করে দেখেছি অভিযুক্তদের সবাই পুরুষ প্রিজাইডিং অফিসার। কোনো নারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমি পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও জানান তিনি।
নারীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই গ্যাপ এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে। আমি নিজে দেখেছি রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে নারীরা ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এই দৃশ্য অভাবনীয়।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন ভালো হলে সাধারণত ভোট শেষ হওয়ার পর কিছু রাজনৈতিক আপত্তি ওঠে, যা আমাদের দেশের কালচার। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি এমন কোনো অভিযোগ আমি এখনো শুনিনি।
দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স ও গার্মেন্টস সেক্টরে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে নারীদের ওপর, তাই তাদের কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















