Dhaka শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে অপহরণের মূলহোতা বনদস্যু মাসুম আটক

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণকারী দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩)কে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ধানখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাঙ্গা বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) কে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ২ টি দেশীয় কুড়াল, ১ টি দা, ১ টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটক দস্যু ও জব্দ অস্ত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা। এই নিয়ে সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনায় ৯ জনকে আটক করল আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

বাকি আটককৃতরা হলেন, ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪),আলম মাতব্বর (৩৮), মোঃ ইফাজ ফকির (২৫), মোছা মৃধা (৫৫), মো. মহারাজ হাওলাদার (২৫), দস্যু মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) এবং বিকাশ এজেন্ট অয়ন কুন্ডু (৩০)। তাদের সবার বাড়ি খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এর আগে গেল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে ৫ জন পর্যটক, ১ জন মাঝি এবং রিসোর্ট মালিকসহ ৭ জন ব্যক্তিকে ডাকাত মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন রাঙ্গা বাহিনী। ডাকাত দল ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও ২ জন পর্যটক এবং গোল কানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরবর্তীতে শনিবার ও রবিবার দুই দিনের অভিযানে, ডাকাত কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), মো. ইফাজ ফকির (২৫) ও মোছা দৃধা (৫৫),মো. মহারাজ হাওলাদারকে (২৫) সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা হতে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়।

পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও Financial footprint অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। এদিন রাতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্স এর মাধ্যমে জিম্মিকৃত ২ জন পর্যটক এবং গোল কানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের শিকাররা হলেন , পর্যটক মো. সোহেল ও জাহিদুল ইসলাম এবং রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়। গোলকানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় বলেন, ডাকাতরা তিনজন ছিল। তাদের কাছে ৩টি পাইপগান, দুটি রামদা ও একটি দা ছিল। আমাদেরকে ধরার পর তারা বনের বেশ ভেতরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের ৩ জনকে আটককে রেখে বাকি চারজনকে ছেড়ে দেয়। আমাদের ভেতরে নিয়ে টাকার জন্য নির্যাতন করে।

মোহাম্মদ সোহেল বলেন, দস্যুরা তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। আমাদেরকে বেশ নির্যাতন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় একটা ফরেস্ট অফিসের পেছনে ছেড়ে দিয়ে বনের ভেতর চলে যায়। পরে কোস্ট কার্ড আমাদের উদ্ধার করে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখেছে কোস্টগার্ড। যৌথ বাহিনীর অভিযানে আমরা ৮ জনকে আটক করি। সব শেষ অভিযান চালিয়ে দস্যু প্রধান মাসুম মৃধাকে আটক করা হয়েছে। তার সংরক্ষনে থাকা পর্যটকদের মুঠাফোন ও হাত ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের যান মাল রক্ষায় কোস্টগার্ড কাজ করছে। গেল এক বছরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ৪৯ জন ডাকাতকে আটক ও ৫২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে বলে জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত

সুন্দরবনে অপহরণের মূলহোতা বনদস্যু মাসুম আটক

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : 

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণকারী দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩)কে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ধানখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাঙ্গা বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) কে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ২ টি দেশীয় কুড়াল, ১ টি দা, ১ টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটক দস্যু ও জব্দ অস্ত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা। এই নিয়ে সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনায় ৯ জনকে আটক করল আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

বাকি আটককৃতরা হলেন, ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪),আলম মাতব্বর (৩৮), মোঃ ইফাজ ফকির (২৫), মোছা মৃধা (৫৫), মো. মহারাজ হাওলাদার (২৫), দস্যু মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) এবং বিকাশ এজেন্ট অয়ন কুন্ডু (৩০)। তাদের সবার বাড়ি খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এর আগে গেল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে ৫ জন পর্যটক, ১ জন মাঝি এবং রিসোর্ট মালিকসহ ৭ জন ব্যক্তিকে ডাকাত মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন রাঙ্গা বাহিনী। ডাকাত দল ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও ২ জন পর্যটক এবং গোল কানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরবর্তীতে শনিবার ও রবিবার দুই দিনের অভিযানে, ডাকাত কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), মো. ইফাজ ফকির (২৫) ও মোছা দৃধা (৫৫),মো. মহারাজ হাওলাদারকে (২৫) সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা হতে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়।

পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও Financial footprint অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। এদিন রাতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্স এর মাধ্যমে জিম্মিকৃত ২ জন পর্যটক এবং গোল কানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের শিকাররা হলেন , পর্যটক মো. সোহেল ও জাহিদুল ইসলাম এবং রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়। গোলকানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় বলেন, ডাকাতরা তিনজন ছিল। তাদের কাছে ৩টি পাইপগান, দুটি রামদা ও একটি দা ছিল। আমাদেরকে ধরার পর তারা বনের বেশ ভেতরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের ৩ জনকে আটককে রেখে বাকি চারজনকে ছেড়ে দেয়। আমাদের ভেতরে নিয়ে টাকার জন্য নির্যাতন করে।

মোহাম্মদ সোহেল বলেন, দস্যুরা তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। আমাদেরকে বেশ নির্যাতন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় একটা ফরেস্ট অফিসের পেছনে ছেড়ে দিয়ে বনের ভেতর চলে যায়। পরে কোস্ট কার্ড আমাদের উদ্ধার করে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখেছে কোস্টগার্ড। যৌথ বাহিনীর অভিযানে আমরা ৮ জনকে আটক করি। সব শেষ অভিযান চালিয়ে দস্যু প্রধান মাসুম মৃধাকে আটক করা হয়েছে। তার সংরক্ষনে থাকা পর্যটকদের মুঠাফোন ও হাত ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের যান মাল রক্ষায় কোস্টগার্ড কাজ করছে। গেল এক বছরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ৪৯ জন ডাকাতকে আটক ও ৫২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে বলে জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা।