Dhaka সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটের কাছে পাত্তাই পেল না রংপুর রাইডার্স

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৪ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলমান বিপিএলের ২৩তম ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল সিলেট টাইটান্স। এই ম্যাচে তারকাবহুল রংপুরকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করেছে স্বাগতিকরা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে সিলেট।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় রংপুর। জবাব দিতে নেমে ১৫ এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় সিলেট। ৯ ম্যাচে ৫ জয় ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে তারা।

১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে সিলেট টাইটান্স। পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভার) কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান করে স্বাগতিকেরা। রানের চাকা এরপর ধীর হতে থাকে। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে রংপুরের চায়নাম্যান বোলার সুফিয়ান মুকিমকে স্লগ সুইপ করতে যান তৌফিক খান তুষার। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে সহজেই তালুবন্দী করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২২ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৩ রান করেন তুষার।

৫৪ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন আরিফুল ইসলাম। তবে বেশিক্ষণ উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ২৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় আরিফুল করেন ২১ রান। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে আরিফুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। ৮৪ রানে ২ উইকেট হারানো সিলেটের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যাবে দলটি। ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে নাহিদ রানাকে বাউন্ডারি মেরে শেষ করতে হয়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়া বল ডিপ মিড উইকেটে সহজে তালুবন্দী করেন মোহাম্মদ নবি।

আফিফকে (১২) ফেরানোর পরের বলেই আরেকটা উইকেট পেয়ে যান নাহিদ রানা। ১৭তম ওভারের শেষ বলে ইথান ব্রুকসকে (০) বোল্ড করেন রানা। তবে সেটা খুব একটা অসুবিধা হয়নি সিলেটের। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ইফতেখার আহমেদকে ছক্কা মেরে খেলা শেষ করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৪১ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইমন।

এর আগে সিলেটে নিজেদের শেষ ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর। দুই ওভারে ৬ বলের মধ্যে ৬ রানে দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও তাওহীদ হৃদয় আউট হন। নাসুম আহমেদের বলে ডাক মারেন মায়ার্স। ৪ রান করে শহীদুল ইসলামের শিকার হন হৃদয়।

চারটি চার মেরে দারুণ শুরু করে লিটন দাস শহীদুলের পরের ওভারে বিদায় নেন। ১২ বলে ২২ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৩৫ রান করে চাপে পড়ে রংপুর।

তারপর ১১তম ওভারে চতুর্থ উইকেট পড়লেও রান দ্রুত বাড়েনি। ১৭ রান করা ইফতিখার আহমেদ ৪০ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান। তারপর শুরু হয় ধস। একশ রান করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। ১৬তম ওভারে নাসুম আহমেদের টানা দুই বলে উইকেট হারায় রংপুর। ৯৬ রানে ৯ উইকেট পড়েছিল তাদের। তবে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে একশ পার করে প্রথম পাঁচ ম্যাচে চার জয় পাওয়া রংপুর।

শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রানে থামান সালমান ইর্শাদ। ২৩ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার। ১৮ রানের জুটি ভাঙতেই শেষ হয় রংপুরের ইনিংস। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন খুশদিল শাহ।

সিলেটের পক্ষে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। মঈন আলীও ৪ ওভারে মাত্র ৮ রান খরচা করে ২ উইকেট শিকার করেন। শহিদুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বাকি একটি উইকেট নেন সালমান ইরশাদ।

১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সেরও পয়েন্ট ১০। তবে +০.৮৯৮ নেট রানরেট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম। দুই ও তিনে থাকা সিলেট ও রাজশাহীর নেট রানরেট +০.৪৪৯ ও +০.১৯৪।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বাংলাদেশ মিশনের চার প্রেস কর্মকর্তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ

সিলেটের কাছে পাত্তাই পেল না রংপুর রাইডার্স

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

চলমান বিপিএলের ২৩তম ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল সিলেট টাইটান্স। এই ম্যাচে তারকাবহুল রংপুরকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করেছে স্বাগতিকরা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে সিলেট।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় রংপুর। জবাব দিতে নেমে ১৫ এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় সিলেট। ৯ ম্যাচে ৫ জয় ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে তারা।

১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে সিলেট টাইটান্স। পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভার) কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান করে স্বাগতিকেরা। রানের চাকা এরপর ধীর হতে থাকে। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে রংপুরের চায়নাম্যান বোলার সুফিয়ান মুকিমকে স্লগ সুইপ করতে যান তৌফিক খান তুষার। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে সহজেই তালুবন্দী করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২২ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৩ রান করেন তুষার।

৫৪ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন আরিফুল ইসলাম। তবে বেশিক্ষণ উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ২৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় আরিফুল করেন ২১ রান। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে আরিফুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। ৮৪ রানে ২ উইকেট হারানো সিলেটের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে যাবে দলটি। ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে নাহিদ রানাকে বাউন্ডারি মেরে শেষ করতে হয়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়া বল ডিপ মিড উইকেটে সহজে তালুবন্দী করেন মোহাম্মদ নবি।

আফিফকে (১২) ফেরানোর পরের বলেই আরেকটা উইকেট পেয়ে যান নাহিদ রানা। ১৭তম ওভারের শেষ বলে ইথান ব্রুকসকে (০) বোল্ড করেন রানা। তবে সেটা খুব একটা অসুবিধা হয়নি সিলেটের। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ইফতেখার আহমেদকে ছক্কা মেরে খেলা শেষ করেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৪১ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইমন।

এর আগে সিলেটে নিজেদের শেষ ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর। দুই ওভারে ৬ বলের মধ্যে ৬ রানে দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও তাওহীদ হৃদয় আউট হন। নাসুম আহমেদের বলে ডাক মারেন মায়ার্স। ৪ রান করে শহীদুল ইসলামের শিকার হন হৃদয়।

চারটি চার মেরে দারুণ শুরু করে লিটন দাস শহীদুলের পরের ওভারে বিদায় নেন। ১২ বলে ২২ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৩৫ রান করে চাপে পড়ে রংপুর।

তারপর ১১তম ওভারে চতুর্থ উইকেট পড়লেও রান দ্রুত বাড়েনি। ১৭ রান করা ইফতিখার আহমেদ ৪০ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান। তারপর শুরু হয় ধস। একশ রান করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। ১৬তম ওভারে নাসুম আহমেদের টানা দুই বলে উইকেট হারায় রংপুর। ৯৬ রানে ৯ উইকেট পড়েছিল তাদের। তবে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে একশ পার করে প্রথম পাঁচ ম্যাচে চার জয় পাওয়া রংপুর।

শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রানে থামান সালমান ইর্শাদ। ২৩ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার। ১৮ রানের জুটি ভাঙতেই শেষ হয় রংপুরের ইনিংস। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন খুশদিল শাহ।

সিলেটের পক্ষে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। মঈন আলীও ৪ ওভারে মাত্র ৮ রান খরচা করে ২ উইকেট শিকার করেন। শহিদুল ইসলাম ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বাকি একটি উইকেট নেন সালমান ইরশাদ।

১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সেরও পয়েন্ট ১০। তবে +০.৮৯৮ নেট রানরেট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম। দুই ও তিনে থাকা সিলেট ও রাজশাহীর নেট রানরেট +০.৪৪৯ ও +০.১৯৪।