Dhaka বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সিলেট টাইটান্স। ওপেনার জাকির হাসান ও তিনে নামা আরিফুল ইসলাম দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে দল। সেই চাপ সামলে পারভেজ ইমন ও স্যাম বিলিংস দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। তবে তাদের বিদায়ের পর আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। তাতে ১২ রানের জয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৫ রান করেন কেন উইলিয়ামসন। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি রাজশাহী।

রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। প্রথম ৪ ওভারের মধ্যে জাকির ও আরিফুলের উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮ রান তুলতে পারে দলটি। দুটি উইকেটই নিয়েছেন বিনুরা। দুটো ক্যাচই নিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান।

তবে এরপর পারভেজ হোসেন ইমন অন্যপ্রান্তে পালটা আক্রমণ শুরু করেন। তৃতীয় ওভারে দুই চারের পর চতুর্থ ওভারে ২ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এতে ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে সিলেটের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩৭ রান। পরের ওভারে ইমন ও স্যাম বিলিংস হাঁকান একটি করে ছক্কা। ১০ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ২উইকেট হারিয়ে ৭০ রান।

১১তম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন ইমন। নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করে সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙেন তানজিম সাকিব। ১২তম ওভারে লং অনে স্যাম বিলিংসের ক্যাচ ফেলেন কেন উইলিয়ামসন। ২৮ রানে জীবন পাওয়া বিলিংস পরে করেন আরও ৯ রান। ৩৭ রান করে সাকলায়েনের বলে আউট হয়েছেন বিলিংস। মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহানের হাতে। এর আগের ওভারে মঈন আলিকেও হারায় সিলেট, দুর্দান্ত ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল।

শেষ ৫ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। ১৬তম ওভারে আসে ৬ রান। ১৭তম ওভারে ১১ বলে ২১ রান করা আফিফ হোসেনের উইকেট তুলে নেন তানজিম সাকিব। শেষ তিন ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৪ রানের। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে বিদায় করেন রাজশাহীর শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো।

প্রথম স্পেলে ২ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই পান উইকেটের দেখা। এরপর উইকেটে এসেই প্রথম বলে চার রান এনে দেন খালেদ আহমেদ। তবে পরের বলেই তার বিশাল এক শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ছক্কা বাঁচিয়ে পরে সেটাকে ক্যাচে পরিণত করেন রাজশাহী পাকিস্তানি ফিল্ডার সাহিবজাদা ফারহান।

ওই ওভারে আসে মাত্র ৫ রান। শেষ ২ ওভারে তখন সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রানের। ১৯ তম ওভারেও মাত্র ৫ রান খরচ করেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষ ওভারে ২৪ রানের সমীকরণ আর মেলাতে পারেননি আগের ম্যাচে সিলেটকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেওয়া ক্রিস ওকস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে আটকে যায় সিলেট। রাজশাহীর পক্ষে ১৯ রানে ৪টি উইকেট তুলে নেন ফার্নেন্দো।

এর আগে, ব্যাট করতে নেমে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় রাজশাহী। ৬২ রানে ২ ওপেনার ফেরেন সাজঘরে। শাহিবজাদা ফারহান ২১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ এবং তানজিদ ১৫ বলে ৩২ রান করেন ১ চার ও ৪ ছক্কা।

কিন্তু হঠাৎ করেই মিডল অর্ডারে ফাটল ধরে। শান্ত (৭), মুশফিকুর (১ বলে ০) ও মেহরব (০) দ্রুত আউট হন। ৮০ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই রাজশাহীর। সেখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান দুই কিউই ক্রিকেটার উইলিয়ামসন ও নিশাম। দুজন ৫০ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। নিশাম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও উইলিয়ামসন নিজের স্বভাবসুলভ খেলা খেলে শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রাখেন। ক্রিস ওকসকে মাথার উপর দিয়ে মারা ছক্কা কিংবা খালেদকে ইনসাইড আউট শটে কাভারের উপর দিয়ে মারা চার দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে বেশ।

শেষ ওভারে মাত্র ১টি বল খেলার সুযোগ হয় তার। নয়তো প্রথমবার বিপিএল খেলতে নেমে ফিফটি ছোঁয়া হয়ে যেত তার। তাতে দলের স্কোরবোর্ডও সমৃদ্ধ হতো। সিলেটের সেরা বোলার সামলান এরশাদ। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নাসুম ও মিরাজ।

আগামী শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে রাজশাহী।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সিলেটকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সিলেট টাইটান্স। ওপেনার জাকির হাসান ও তিনে নামা আরিফুল ইসলাম দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে দল। সেই চাপ সামলে পারভেজ ইমন ও স্যাম বিলিংস দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। তবে তাদের বিদায়ের পর আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি। তাতে ১২ রানের জয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৫ রান করেন কেন উইলিয়ামসন। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি রাজশাহী।

রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। প্রথম ৪ ওভারের মধ্যে জাকির ও আরিফুলের উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮ রান তুলতে পারে দলটি। দুটি উইকেটই নিয়েছেন বিনুরা। দুটো ক্যাচই নিয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান।

তবে এরপর পারভেজ হোসেন ইমন অন্যপ্রান্তে পালটা আক্রমণ শুরু করেন। তৃতীয় ওভারে দুই চারের পর চতুর্থ ওভারে ২ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এতে ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে সিলেটের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩৭ রান। পরের ওভারে ইমন ও স্যাম বিলিংস হাঁকান একটি করে ছক্কা। ১০ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ২উইকেট হারিয়ে ৭০ রান।

১১তম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন ইমন। নিজের বলে নিজেই ফিল্ডিং করে সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙেন তানজিম সাকিব। ১২তম ওভারে লং অনে স্যাম বিলিংসের ক্যাচ ফেলেন কেন উইলিয়ামসন। ২৮ রানে জীবন পাওয়া বিলিংস পরে করেন আরও ৯ রান। ৩৭ রান করে সাকলায়েনের বলে আউট হয়েছেন বিলিংস। মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহানের হাতে। এর আগের ওভারে মঈন আলিকেও হারায় সিলেট, দুর্দান্ত ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল।

শেষ ৫ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। ১৬তম ওভারে আসে ৬ রান। ১৭তম ওভারে ১১ বলে ২১ রান করা আফিফ হোসেনের উইকেট তুলে নেন তানজিম সাকিব। শেষ তিন ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৪ রানের। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে বিদায় করেন রাজশাহীর শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো।

প্রথম স্পেলে ২ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই পান উইকেটের দেখা। এরপর উইকেটে এসেই প্রথম বলে চার রান এনে দেন খালেদ আহমেদ। তবে পরের বলেই তার বিশাল এক শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ছক্কা বাঁচিয়ে পরে সেটাকে ক্যাচে পরিণত করেন রাজশাহী পাকিস্তানি ফিল্ডার সাহিবজাদা ফারহান।

ওই ওভারে আসে মাত্র ৫ রান। শেষ ২ ওভারে তখন সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রানের। ১৯ তম ওভারেও মাত্র ৫ রান খরচ করেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শেষ ওভারে ২৪ রানের সমীকরণ আর মেলাতে পারেননি আগের ম্যাচে সিলেটকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেওয়া ক্রিস ওকস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে আটকে যায় সিলেট। রাজশাহীর পক্ষে ১৯ রানে ৪টি উইকেট তুলে নেন ফার্নেন্দো।

এর আগে, ব্যাট করতে নেমে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় রাজশাহী। ৬২ রানে ২ ওপেনার ফেরেন সাজঘরে। শাহিবজাদা ফারহান ২১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ এবং তানজিদ ১৫ বলে ৩২ রান করেন ১ চার ও ৪ ছক্কা।

কিন্তু হঠাৎ করেই মিডল অর্ডারে ফাটল ধরে। শান্ত (৭), মুশফিকুর (১ বলে ০) ও মেহরব (০) দ্রুত আউট হন। ৮০ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই রাজশাহীর। সেখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান দুই কিউই ক্রিকেটার উইলিয়ামসন ও নিশাম। দুজন ৫০ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। নিশাম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও উইলিয়ামসন নিজের স্বভাবসুলভ খেলা খেলে শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রাখেন। ক্রিস ওকসকে মাথার উপর দিয়ে মারা ছক্কা কিংবা খালেদকে ইনসাইড আউট শটে কাভারের উপর দিয়ে মারা চার দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে বেশ।

শেষ ওভারে মাত্র ১টি বল খেলার সুযোগ হয় তার। নয়তো প্রথমবার বিপিএল খেলতে নেমে ফিফটি ছোঁয়া হয়ে যেত তার। তাতে দলের স্কোরবোর্ডও সমৃদ্ধ হতো। সিলেটের সেরা বোলার সামলান এরশাদ। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নাসুম ও মিরাজ।

আগামী শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে রাজশাহী।